...|...|...

খুলনা

আগামী বছরের মার্চে উদ্বোধন হতে পারে পদ্মা ব্যারাজ: পানিসম্পদ মন্ত্রী

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৫৫ | আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:১৩
Shares
আগামী বছরের মার্চে উদ্বোধন হতে পারে পদ্মা ব্যারাজ: পানিসম্পদ মন্ত্রী

সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। ছবি: টাইমস টুডে

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ১৫ থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। 

তিনি বলেন, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরেজমিনে এসে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুরে পদ্মা ও গড়াই নদীর মোহনা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন পানি সম্পদ মন্ত্রী।

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি এবং নির্বাচনী ইশতেহারে পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। জনগণ ম্যান্ডেট দেওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কারিগরি সহায়তা, সম্ভাব্যতা যাচাইসহ বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতিমূলক কাজ চলেছে। ২০০৪ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে ২০২৬ সালে এসে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রকল্পটি দৃশ্যমান করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি জনগণের সামনে এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং নির্বাচনী ইশতেহারে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আগামী জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সরেজমিনে এসে প্রকল্পটির উদ্বোধন করবেন বলে তারা আশা করছেন।

পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে উল্লেখ করে পানি সম্পদ মন্ত্রী বলেন, এর ফলে কৃষি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি ও বন্যার কারণে যে বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তা নিয়ন্ত্রণেও প্রকল্পটি ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও গতিপথ ঠিক না থাকলে অনেক সময় নদীর তীরবর্তী বাঁধ ভেঙে যায়। এতে বসতবাড়ি, বাজার ও বিভিন্ন জনপদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানির প্রবাহ কমে গেলে খালসহ নদীর সঙ্গে সংযুক্ত জলপ্রবাহগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সুন্দরবনের প্রতিবেশব্যবস্থার ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ে।

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, প্রকল্পটির মাধ্যমে এই অঞ্চলের ১৯টি জেলার আশপাশের উপকারভোগীসহ মোট ২৪ জেলার মানুষ বিভিন্নভাবে সুফল পাবেন। তবে অঞ্চলভেদে উপকারের ধরন ও সুবিধাভোগীর সংখ্যা ভিন্ন হবে।

প্রকল্পের অবকাঠামো সম্পর্কে তিনি বলেন, মূল পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের পাশাপাশি পদ্মা ও গড়াই নদীর সংযোগস্থলেও একটি ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে। এটিকে গড়াই অফটেক বলা হচ্ছে। সেখানে মাছের স্বাভাবিক চলাচলের জন্য ফিশ পাস, নৌযান চলাচলের সুবিধায় নেভিগেশন লক এবং পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন গেট ও আন্ডার স্লুইস রাখা হবে।

মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের লক্ষ্য ছিল প্রকল্পটির পূর্ণ সুফল এ অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। সেই লক্ষ্যেই সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। খুব শিগগিরই প্রকল্প এলাকায় দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে মানুষ এর সুবিধা পেতে শুরু করবেন।

পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে এটি ভারতের জন্য কোনো ধরনের উদ্বেগের কারণ হবে কি না-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পানি সম্পদ মন্ত্রী বলেন, ভারত বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম দেশ। তবে দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

পরিদর্শনকালে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, দৌলতপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রাগিব রউফ চৌধুরী, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহরাব উদ্দিন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকারসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।