শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে হামলা চালিয়েছে অসাধু জেলেরা। শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ আহমেদ আসলাম, উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেই এ আক্রমণের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ও নৌ-পুলিশের সহায়তায় চালানো যৌথ অভিযানে ৪৫ জেলেকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে জাজিরা উপজেলার পালেরচর এলাকা সংলগ্ন পদ্মা নদীতে এ উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মা ইলিশ রক্ষায় সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে পদ্মার চরাঞ্চলে নিয়মিত টহল দিচ্ছিল মৎস্য বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন। এ সময় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকাররত একদল অসাধু জেলের সাথে অভিযান পরিচালনাকারী দলের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রায় একশ’ জন জেলে লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হঠাৎ চড়াও হয়।
পরিদর্শনকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ আহমেদ আসলাম, জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তার স্পিডবোট ও বহর লক্ষ্য করে হামলাকারীরা বেপরোয়া ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পরিস্থিতি সাময়িকভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অভিযানকারী দলটি কিছুটা পিছু হটতে বাধ্য হয়। তবে খবর পেয়ে দ্রুত সেনাবাহিনী ও নৌ-পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য চরাঞ্চলে পৌঁছান। তারা যৌথভাবে সুনির্দিষ্ট এলাকা ঘিরে কঠোর পদক্ষেপ নিলে হামলাকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়।
অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (জেলা প্রশাসকের কার্যালয়) তৌহিদুর রহমান এবং জাজিরা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসানের যৌথ পরিচালনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। আদালত আটককৃত ৪৫ জনের মধ্যে ৪০ জন জেলেকে ১০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। আটক বাকি ৫ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক ও প্রতিবন্ধী হওয়ায় অভিভাবকের উপস্থিতিতে মুচলেকা নিয়ে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ৩ লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও ৩০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হয়।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে শরীয়তপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, ‘দুর্গম চরাঞ্চলে সুযোগ নিয়ে অসাধু জেলেরা সসংঘবদ্ধ হয়ে আগ্রাসী মনোভাব দেখানোর চেষ্টা করেছিল। তবে যৌথ বাহিনীর সময়োপযোগী ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। স্থানীয় সংসদ সদস্য নিজে বিভিন্ন ঘাটে গিয়ে জেলেদের সচেতন করছেন এবং মা ইলিশ রক্ষায় সবাইকে উৎসাহিত করছেন।’
হামলার বিষয়ে শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ আহমেদ আসলাম বলেন, ‘বিষয়টিকে আমি ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে দেখছি না। মূলত সরকারি আইন বাস্তবায়ন ও মা ইলিশ রক্ষার অভিযানকে প্রতিহত করতেই তারা এ ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। নিবন্ধিত প্রকৃত জেলেদের বাইরে কিছু অসাধু চক্র বেআইনিভাবে নদী থেকে ইলিশ শিকারের চেষ্টা চালাচ্ছে। জাতীয় সম্পদ মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসনকে সাথে নিয়ে আমাদের এই কঠোর অবস্থান ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।’


