...|...|...

সারাদেশ

কুমিল্লা সীমান্তে মাদকের বিস্তার, আড়ালে মূল কারবারিরা

মোশারফ হোসেন, কুমিল্লা
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:২১
Shares
কুমিল্লা সীমান্তে মাদকের বিস্তার, আড়ালে মূল কারবারিরা

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম সীমান্ত। ছবি: টাইমস টুডে

ভারত সীমান্তঘেঁষা কুমিল্লায় মাদক পাচার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চলছে নিয়মিত। বিভিন্ন সময় উদ্ধার হচ্ছে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদক। গ্রেফতার হচ্ছেন বাহক ও খুচরা বিক্রেতারাও। কিন্তু এত অভিযান ও আটকের পরও মাদকের সরবরাহ বন্ধ হচ্ছে না। বরং সীমান্ত পেরিয়ে সড়ক, নদী ও রেলপথ ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে এসব মাদক। প্রশ্ন উঠেছে, চালান ধরা পড়লেও এর নেপথ্যে থাকা অর্থদাতা, সরবরাহকারী ও নিয়ন্ত্রকদের কতটা আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে?

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাদক কারবারের পেছনে রয়েছে একাধিক সংঘবদ্ধ চক্র। তাদের সাথে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কারও কারও যোগাযোগ রয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। প্রশাসনের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগও তুলেছেন কয়েকজন। তবে এসব অভিযোগের সবগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

তালিকায় ১৮৪ জন, গডফাদার ১৪

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় মাদক কারবারিদের একটি তালিকায় ১৮৪ জনের নাম রয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জনকে গডফাদার, ৫৪ জনকে পাইকারি কারবারি এবং ১১৬ জনকে খুচরা বিক্রেতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অধিদফতরের সহকারী পরিচালক বজলুর রহমান বলেন, তদন্তের স্বার্থে গডফাদারদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কারবারিদের মধ্যে ছয়জন পুলিশের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। অন্যদের অনেকে পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। আবার কারও কারও জামিনে থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। গত ১৮ আগস্ট থেকে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর তালিকাভুক্ত অনেক কারবারি আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি।

সীমান্তের ওপারে সিন্ডিকেট, ভেতরে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক

স্থানীয়দের ভাষ্য, ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পাচারের সাথে একাধিক সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত। সীমান্তের ওপারে মাদক উৎপাদন ও সংগ্রহের পর বিভিন্ন কৌশলে তা বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। গাঁজা চাষ এবং ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকের উৎপাদনকেন্দ্র থাকার দাবিও করেছেন স্থানীয় কয়েকজন।

সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশের পর কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় থাকা পরিবহন ও সরবরাহ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তা দেশের অন্যান্য স্থানে পৌঁছে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, এই চক্রের সাথে ছোট-বড় বহু কারবারি যুক্ত। তাদের মধ্যে কেউ কেউ রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আমার দেশ-এর প্রতিবেদকের হাতে আসা একটি তালিকায় কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলার বেশ কয়েকজনের নাম রয়েছে। তবে তালিকাভুক্ত হওয়া মানেই কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং তাদের বক্তব্য নেওয়া জরুরি।

আদর্শ সদর উপজেলার তালিকায় ধর্মপুর এলাকার জিন্নাতুন নেছা, শাসনগাছার সুরাইয়া বেগম, বালুতোপার শিবু এবং কাটাবিলের অপু ও সাব্বিরের নাম উল্লেখ রয়েছে।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার তালিকায় রয়েছেন আবুল হোসেন, সোনা মিয়া, হেলাল, মুখলেছ, বিল্লাল হোসেন, সামির উদ্দিন, জামাল হোসেন, জাহাঙ্গীর মিয়া, রফিকুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম, মামুন মিয়া, উজ্জ্বল, বাহাদুর, আব্দুল জলিল ও দেলোয়ার হোসেন। এ ছাড়া শশীদলের হেলাল উদ্দিন ও রিপন মিয়া, তেতাভূমীর আলী আকবর ও সুমন মেম্বার এবং দীঘিরপাড়ের বাবুল মিয়ার নাম রয়েছে।

বুড়িচং উপজেলার তালিকায় চরানল এলাকার হুমায়ন মেম্বার ও মহসিন, শংকুচাইলের রবিউল ইসলাম রবি, বিল্লাল হোসেন, আনোয়ার হোসেন, আবদুল খালেক ওরফে মুরগি শাহিন, পাইকোডার জসিম উদ্দিন, কালাকচুয়ার মাধব চন্দ্র সাহা, উত্তরগ্রামের ফিরোজ মিয়া ও এনামুল হক, মীরপুরের খোরশেদ আলম ও জামাল খান, নগরপাড়ের এনু মিয়া এবং বারেশ্বরের মানিক মিয়া ও নুরুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

চৌদ্দগ্রামের তালিকায় চান্দিশকড়ার আরিফুর রহমান, বসন্তপুরের রুবেল মিয়া, বৈদ্যেরখীলের কামাল, পেয়ারা আহমেদ (২৬), দেলু, উপজেলা সদরের নাছির উদ্দিন ও জগমোহনের শাহীনের নাম রয়েছে। সদর দক্ষিণ উপজেলার তালিকায় মান্দারীর নাজমুল হাসান, শামীম হোসেন, শাকিল, রুবেল, ফারুক ও সুমন, মুদ্দতের আলমগীর হোসেন এবং সূর্যনগরের নূর হোসেনসহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে।

এসব নামের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নথি যাচাই ছাড়া কাউকে মাদক কারবারি হিসেবে চূড়ান্তভাবে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়।

ঝুঁকিপূর্ণ ৪৭ পয়েন্ট

বিভিন্ন সূত্র ও সরকারি নথির বরাতে কুমিল্লা সীমান্তের প্রায় ৪৭টি পয়েন্টকে মাদক ও চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে আদর্শ সদর উপজেলার বিবিরবাজার ও গোলাবাড়ী, ব্রাহ্মণপাড়ার শশীদল, আশাবাড়ী ও হরিমঙ্গল, বুড়িচংয়ের হায়দ্রাবাদ, নগর ও ভবেরমুড়া এবং সদর দক্ষিণের মথুরাপুর ও কনসতলা উল্লেখযোগ্য।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব সীমান্তবর্তী এলাকা ব্যবহার করে দেশের ভেতরে মাদক প্রবেশ করানো হয়। পরে বিভিন্ন পরিবহনমাধ্যম ও স্থানীয় সরবরাহকারীদের মাধ্যমে চালান ছড়িয়ে পড়ে দেশের নানা প্রান্তে।

নদীপথেও মাদক পাচারের অভিযোগ

সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের ভাষ্য, মাদক পাচারে শুধু সড়ক নয়, নদীপথও ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট সংকেতযুক্ত বস্তা পানিতে ভাসিয়ে বা ডুবিয়ে রেখে পরে সেগুলো সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়।

বিজিবি সদস্য এনামুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে বস্তার সাথে খালি পানির বোতল, মবিলের বোতল, কলাগাছ কিংবা অন্য কোনো হালকা বস্তু বেঁধে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। চালানের অবস্থান ও চিহ্নের ছবি বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পাঠানো হয় বলে তিনি জানান। পরে নদীর ভাটির দিকে থাকা ব্যক্তিরা সংকেত দেখে চালান সংগ্রহ করেন বলে তার ভাষ্য।

কটক বাজার-গাজীপুর এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ পেয়ার আহমেদও নদীপথে মাদক আনার এমন কৌশলের কথা জানিয়েছেন। তার দাবি, পলিথিনে বালু বা পাথর ব্যবহার করে মাদক পানির নিচে রাখা হয়। সাথে থাকে খালি বোতল বা নির্দিষ্ট চিহ্ন।

প্রাডো গাড়িতে তিন লাখ ইয়াবা

কুমিল্লায় মাদক পাচারের বড় চালান আটকের একটি ঘটনা ঘটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জাগুরঝুলি এলাকায়। গত ১৯ আগস্ট একটি প্রাডো গাড়ি থেকে প্রায় তিন লাখ ইয়াবা উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক মূল্য বলা হয় ১৫ কোটি টাকা। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছিল।

তবে ওই চালান পরিবহনে ব্যবহৃত গাড়িটির মালিকের পরিচয় তখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

কুমিল্লা ডিবির ওসি শাহ আলম শাহ বলেন, গাড়ির মালিককে শনাক্ত করতে কাজ চলছে। তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক পরিবহনে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ব্যবহার করা হয়। এমনকি অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি সেবার যানবাহন ব্যবহার করে মাদক বহনের অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্দিষ্ট ঘটনা ও তদন্তের ভিত্তিতে যাচাই করা প্রয়োজন।

রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকার কয়েকজনের দাবি, মাদক কারবারের সাথে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একটি অংশের যোগাযোগ রয়েছে। কয়েকজনের বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে সাথে মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণেও পরিবর্তন এসেছে। আগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটি অংশ এ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে দাবি করেছেন তারা। বর্তমানে বিএনপির সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া না গেলে তা অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়াও জরুরি।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর কাজী গোলাম কিবরিয়া আমার দেশ-কে বলেন, প্রশাসন ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কুমিল্লায় মাদকের বিস্তার বেড়েছে। তার দাবি, প্রশাসন আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নিলে সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

মাদক কারবারিদের সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের যোগাযোগ রয়েছে—এমন অভিযোগও করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাদের দাবি, বিজিবির কিছু সদস্য অর্থের বিনিময়ে কারবারিদের তথ্য সরবরাহ করেন। তবে অভিযোগগুলোর পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

গত মাসে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় মাদকের একটি চালান আটকের পর ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে জব্দ করা মাদক ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং পুলিশের পক্ষ থেকেও তা স্বীকার করা হয়নি।

এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দফতরের নথি, জব্দ তালিকা, মামলার কাগজপত্র, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং প্রয়োজন হলে স্বাধীন তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিন বছরে ৫২ কোটি টাকার মাদক জব্দ

বিজিবির রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী জানান, কুমিল্লা ১০ বিজিবি ও সুলতানপুর ৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়ন গত তিন বছরে প্রায় ২০ হাজার ২০০টি অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদক জব্দ এবং মাদকসহ হাতেনাতে ৫২৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া আড়াই শতাধিক আসামি পলাতক রয়েছেন বলে জানান তিনি।

বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জব্দ করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ৩৪ হাজার ২৩৫ বোতল ফেনসিডিল, ৩৪ হাজার ১৭২ বোতল স্কাফ সিরাপ, ১৮ হাজার ৪৯ বোতল বিয়ার, ৮৪ হাজার ৯৫৮ বোতল হুইস্কি, ২৩ হাজার ৯৮১ কেজি গাঁজা এবং তিন লাখ ১০ হাজার ৫৯৮টি ইয়াবা। এ ছাড়া আইপি ইনজেকশন, সেনেগরা, মোসলাইড, সিপ্রোহেপ্টাডিন ও ট্যাপেন্টাডলসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে।

বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ এবং শত শত ব্যক্তিকে আটকের পরও সরবরাহ অব্যাহত থাকার বিষয়টি মাদক পাচার প্রতিরোধে বিদ্যমান ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। তবে জব্দের পরিমাণের পাশাপাশি কতটি মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে, কারা অর্থায়ন করেছে এবং সরবরাহ নেটওয়ার্কের কতজন নিয়ন্ত্রক শনাক্ত হয়েছেন—সেসব তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ।

মাদক ঘিরে বাড়ছে সংঘাতের উদ্বেগ

মাদকের প্রভাব সীমান্তবর্তী এলাকাতেই সীমাবদ্ধ নেই; নগরীর বিভিন্ন এলাকাতেও মাদক ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছে। গত ২৫ জুন কুমিল্লার কাটাবিল এলাকায় এমন একটি সংঘর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গত ১৮ আগস্ট থেকে পাঁচ শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

শুধু চালান জব্দ নয়, ভাঙতে হবে পুরো নেটওয়ার্ক

কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ ঠেকানো নিঃসন্দেহে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে কেবল বাহককে আটক বা চালান জব্দ করেই এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। মাদকের অর্থের উৎস, সরবরাহের সাথে যুক্ত ব্যক্তি, পরিবহনব্যবস্থা, স্থানীয় সমন্বয়কারী এবং বড় ক্রেতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।

একই সাথে রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে কেউ যেন তদন্ত এড়িয়ে যেতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

সীমান্তে নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি দেশের ভেতরে মাদক সরবরাহের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া, মামলার তদন্তের অগ্রগতি প্রকাশ এবং অপরাধের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রমাণভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়া গেলে মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর অগ্রগতি সম্ভব।