...|...|...

সারাদেশ

বান্দরবানে কুকুরের কামড়ে আহত ১৭

বান্দরবান প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪:৩৮
Shares
বান্দরবানে কুকুরের কামড়ে আহত ১৭

একজনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ছবি: টাইমস টুডে

বান্দরবানে কুকুরের কামড়ে শিশু, নারী ও পুরুষসহ ১৭ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বান্দরবান পৌরসভা ও সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য ১৬ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও আক্রান্ত ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার সকালে পৌরসভার মধ্যমপাড়া, উজানীপাড়া ও কালাঘাটা এবং সদর ইউনিয়নের লেমুঝিড়ি এলাকায় কুকুরের কামড়ে এসব ব্যক্তি আহত হন। রাস্তায় চলাচলের সময় তারা কুকুরের আক্রমণের শিকার হন।

আহতদের মধ্যে উচাইসিং মারমা (৮) ও চং প্রেং ম্রো (৬) নামে দুই শিশুও রয়েছে। তারা রাজগুরু বৌদ্ধবিহারে থেকে লেখাপড়া করে। সকালে রাস্তায় বের হলে একটি কুকুর তাদের কামড় দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া মিল্টনপাড়ার বাসিন্দা চিংইয়ায় থুই মারমা (২৭) খামারে যাওয়ার পথে বঙ্গঝিড়ি সড়কে কুকুরের কামড়ে আহত হন। অন্যদিকে, লেমুঝিড়ি এলাকার লক্ষ্মী দেবী তঞ্চঙ্গ্যা (৩৫) বাজার থেকে ফেরার পথে আগাপাড়ায় কুকুরের আক্রমণের শিকার হন।

আহত কামাল হোসেন (৩০) বান্দরবান সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লেমুঝিড়ি মধ্যমপাড়ার বাসিন্দা। বম হোস্টেল থেকে বাড়ি ফেরার পথে কুকুরের কামড়ে আহত হন তিনি। বর্তমানে তিনি বান্দরবান সদর হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডের ২৭ নম্বর শয্যায় চিকিৎসাধীন।

বান্দরবান সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, সোমবার কুকুরের কামড়ে আহত ১৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের মধ্যে একজনকে গুরুতর অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে। অন্য ১৬ জনকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, একসঙ্গে এত রোগীকে টিকা দেওয়ায় হাসপাতালে টিকার সংকট দেখা দিতে পারে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুলাইয়ে ৬৭ জন, আগস্টে ১১৩ জন এবং সেপ্টেম্বরে ১১৫ জন কুকুরের কামড়ের শিকার হয়ে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা নিয়েছেন। গত তিন মাসে মোট ২৯৫ জনকে এই টিকা দেওয়া হয়েছে। সোমবারের নতুন ১৭ জনকে নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেড়েছে।

বান্দরবান দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অং চ মং মারমা বলেন, বর্তমানে কুকুরের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় কুকুরগুলো আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। এ অবস্থায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পৌর কর্তৃপক্ষের দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও বান্দরবান পৌরসভার প্রশাসক (উপসচিব) এস এম মজুরুল হক ঢাকা মেইলকে বলেন, আগে বেওয়ারিশ কুকুর মেরে ফেলা হতো। তবে বর্তমানে কুকুর নিধনের সুযোগ নেই। তাই বেওয়ারিশ কুকুরগুলোকে টিকাদানের আওতায় আনা যায় কি না, তা নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে দ্রুত আলোচনা করা হবে।

তিনি বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।