...|...|...

সারাদেশ

ধর্ষণ মামলায় এনসিপি নেতা কারাগারে

বান্দরবান প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:১৬
Shares
ধর্ষণ মামলায় এনসিপি নেতা কারাগারে

এনসিপি নেতা শৈক্যসিং মারমা। ছবি: টাইমস টুডে

বান্দরবানে নিজের পরিচালিত রিসোর্টে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক শৈক্যসিং মারমাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে ভুক্তভোগী এক মারমা নারী বান্দরবান সদর থানায় মামলাটি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামরুল ইসলাম।

গ্রেফতার শৈক্যসিং মারমা (৫৫) বান্দরবান সদর উপজেলার মধ্যমপাড়ার বাসিন্দা মংশৈপ্রু মারমার ছেলে। তিনি এনসিপির বান্দরবান জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওই নারীর পাঁচ বছর আগে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তিনি বান্দরবান শহরে বসবাস করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বিবাহবিচ্ছেদের পর দূর সম্পর্কের আত্মীয় শৈক্যসিং মারমা বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। গত পাঁচ মাসে বান্দরবান শিশু পার্কের পাশে শৈক্যসিং মারমার পরিচালিত ‘সাইনি রিসোর্টে’ নিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, শুক্রবার ওই নারীকে রিসোর্টে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। পরে তারা একসঙ্গে দুপুরের খাবার খান। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিয়ের বিষয়ে কথা বলার সময় শৈক্যসিং মারমা বিয়ে করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি ওই নারীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং শারীরিক নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন রিসোর্টে এলে শৈক্যসিং মারমা ওই নারীকে ধাক্কা দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এনসিপির বান্দরবান জেলা আহ্বায়ক মংসাপ্রু চৌধুরী বলেন, দলের জেলা যুগ্ম আহ্বায়কের এ ঘটনায় জেলা এনসিপি অত্যন্ত বিভ্রান্ত। দলের গঠনতন্ত্র ও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বান্দরবান সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামরুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সদর উপজেলার মধ্যমপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে শৈক্যসিং মারমাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।