...|...|...

রাজনীতি

এনসিপি জামায়াতের আদর্শে চলছে, অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় নেতার পদত্যাগ

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৩১
Shares
এনসিপি জামায়াতের আদর্শে চলছে, অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় নেতার পদত্যাগ

এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন কেন্দ্রীয় সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) মো. আবদুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) মো. আবদুর রহমান। দলটির রাজনৈতিক অবস্থান ও জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোট নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন, এনসিপির কেন্দ্র থেকে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত জামায়াতের আদর্শ ছড়িয়ে পড়েছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এনসিপির আহ্বায়কের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন আবদুর রহমান। একইসাথে দলের সব ধরনের পদ ও সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। পরে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পদত্যাগপত্রটি প্রকাশ করেন।

পদত্যাগপত্রে আবদুর রহমান লিখেছেন, নির্বাচনের আগে ও পরে রাজনৈতিক অবস্থান এবং জামায়াতের সাথে গড়ে ওঠা নির্বাচনি ও রাজনৈতিক জোটের কারণে এনসিপি তার ঘোষিত আদর্শ থেকে সরে গেছে। এ পরিস্থিতিতে দলটির সাথে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে নৈতিক ও আদর্শিকভাবে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতা পেরিয়ে নাগরিক কমিটির হাত ধরে পরবর্তী সময়ে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে এনসিপি গঠনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পেরে তিনি গর্বিত ছিলেন। সংগঠনের ঘোষিত লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, নতুন বন্দোবস্তের প্রত্যয় ও বহুত্ববাদী গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতি অঙ্গীকার তাকে এই রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

তবে দলটির নির্বাচনি ও নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন আবদুর রহমান। তার ভাষ্য, স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতের সাথে গঠিত নির্বাচনি ও রাজনৈতিক জোটের ফলে কেন্দ্র থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত জামায়াতি আদর্শ বিস্তার লাভ করেছে। জামায়াত প্রশ্নে দলের বহু প্রতিষ্ঠাকালীন মেধাবী, পরিশ্রমী ও সম্ভাবনাময় নেতৃত্ব এনসিপি ত্যাগ করেছেন।

আবদুর রহমান লিখেছেন, ‘রাজনৈতিক জোট এবং আদর্শিক জোট এক হবে না’ এমন প্রত্যাশা থেকে তিনি এনসিপির সাথে থেকে যান। কিন্তু দিনে দিনে সংগঠনের ভেতরে-বাইরে দ্বিচারিতা যেন বেড়েই চলেছে। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক জোট এখন আদর্শিক জোট হিসেবে একাকার হয়ে গেছে, যা এনসিপির একজন কর্মী হিসেবে তার মৌলিক আদর্শ ও চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক।

পদত্যাগপত্রে সহকর্মীদের আচরণ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। বিশেষ করে ঐতিহাসিক বিষয়ে নিজের মতামত প্রকাশের কারণে তাকে ‘মুজিববাদী’ তকমা দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ জানান আবদুর রহমান। তার মতে, এ ধরনের আচরণ মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করে এবং সহকর্মীদের মধ্যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস এবং প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রে বিভিন্ন দল ও ব্যক্তির শাসনের ইতিহাসকে পৃথক দুটি অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করার পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

তার অভিযোগ, রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস নিয়ে এনসিপির নেতাকর্মীদের অবস্থান বর্তমানে জামায়াত-শিবিরের অবস্থানের সাথে একাকার হয়ে গেছে। ফলে আদর্শিক প্রশ্নেও দলটির স্বতন্ত্র অবস্থান জামায়াতের বয়ানের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে।

এসব কারণে এনসিপির সাথে পথচলা শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জানিয়ে আবদুর রহমান তার পদত্যাগপত্রে সব ধরনের সাংগঠনিক দায়িত্ব ও পদ থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর কথা উল্লেখ করেন। একইসাথে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করার অনুরোধ জানান তিনি।

তবে এনসিপির ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে ইতিবাচক প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন তিনি। পদত্যাগপত্রের শেষাংশে আবদুর রহমান আশা প্রকাশ করেন, দলটি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।