সংস্কারের নামে বিএনপি বিরোধিতা করতে গিয়ে জামায়াতের কাছে যাওয়ার খেসারত সেকুলার সমাজকে দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তার মতে, জামায়াতের সাথে ঘনিষ্ঠতার কারণে শেষ পর্যন্ত সেকুলার সমাজ ও প্রচলিত আলেম সমাজ-দুই পক্ষকেই মূল্য দিতে হবে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন তিনি।
‘জুলাই পরবর্তী রাজনীতির আজব দশা’ শিরোনামে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে মাহফুজ আলম দেশের রাজনীতিতে ডানপন্থার উত্থান, ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারণা এবং বিএনপিবিরোধী অবস্থান নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা ও সংস্কারের নামে বিএনপি বিরোধিতা করতে গিয়ে সেকুলার সিভিল সোসাইটির বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান জামায়াতের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেছে।
মাহফুজ লেখেন, ডিজিটাল মবের চাপে অনেককে ডানপন্থী থেকে উগ্র-ডান হতে দেখেছি। এখনও দেখছি। এসব ডিজিটাল মব আদতে সিস্টেমেটিক প্রোপাগান্ডা ও ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশন মেকানিজম। এ মেকানিজমকে এড়িয়ে যাওয়ার উপায় সহসা নেই। দেশ (উগ্র) ডানপন্থার ট্রেনে উঠে গেছে। হরেক রঙের নরম-গরম ডান মিলে এটা নিশ্চিত করে ছাড়বে।
স্ট্যাটাসের আরেক অংশে তিনি লেখেন, সংস্কারের নামে (ক্ষমতার জন্য?) বিএনপি বিরোধিতা করতে গিয়ে জাশির কাছে যাওয়ার খেসারত সেকুলার সমাজের দিতেই হবে। ট্রাডিশনাল আলেম সমাজকেও জাশিকে সার্ভিস দেওয়ার খেসারত দিতে হবে। এখানে কেবলই জাশির লাভ। লাভের গুড় খাওয়ার পরে ছুড়ে ফেলা হবে দুই গোষ্ঠীকেই। গুড টাইম ইজ কামিং ফর জাশি অ্যান্ড ৭২ আদার্স। এ আশু ভবিষ্যৎ পাল্টানোর সাধ্য আপাতত কারো নেই। আর, জাশি যত গুড টাইমে যাবে, ততই লীগ ফেরা অনিবার্য হয়ে উঠবে। উই আর গোয়িং ব্যাক টু সেভেন্টি-ওয়ান। যেখানে বিএনপির একাংশ জাশির দুনিয়ায়, অন্য অংশ লীগের দুনিয়ায় বাস করবে। তোমরা বাকিরা আপাতত জাশি প্রযোজিত কালচারাল ওয়ারে নিজেদের ব্যস্ত রাখো।

