...|...|...

বিশ্ব

‘অপরিবর্তনীয় পতনের’ মুখে ইসরায়েল: সাবেক সেনা কমান্ডার

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:২৩
Shares
‘অপরিবর্তনীয় পতনের’ মুখে ইসরায়েল: সাবেক সেনা কমান্ডার

ছবি: এআই

ইসরায়েল সামরিক বাহিনী, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান—সব ক্ষেত্রেই এমন এক পতনের মুখোমুখি হয়েছে, যা থেকে ফিরে আসা কঠিন বলে সতর্ক করেছেন দেশটির অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ইতজাক ব্রিক। তার দাবি, আন্তর্জাতিক বৈধতা ও মিত্রদের হারিয়ে ইসরায়েল ক্রমেই একঘরে হয়ে পড়ছে। দীর্ঘস্থায়ী এই বিচ্ছিন্নতা দেশটির পক্ষে সহ্য করা সম্ভব হবে না।

সংবাদমাধ্যম আনাদোলু জানায়, রবিবার (১ অক্টোবর) ইসরায়েলের দৈনিক মারিভে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে এসব কথা বলেন ব্রিক। তার মতে, দেশটি এখন শুধু রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে না; বরং সামরিক, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক—সব দিক থেকেই সামগ্রিক পতনের মুখে রয়েছে।

গত মঙ্গলবারের সংসদ নির্বাচনের ফলাফলকে ‘আমাদের পরিচিত ইসরায়েল রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক মৃত্যুসনদ’ বলে অভিহিত করেন তিনি। টেলিভিশন ভাষ্যকারদের সমালোচনা করে ব্রিক বলেন, তাঁরা কেবল আসনসংখ্যা ও সরকার গঠনের সমীকরণ নিয়ে আলোচনা করছেন, অথচ দেশের গভীর সংকটগুলো উপেক্ষা করছেন। তাঁর ভাষায়, এই আলোচনা অনেকটা টাইটানিক ডুবে যাওয়ার শেষ মুহূর্তে অর্কেস্ট্রা দলের বাদ্যযন্ত্র বাজানোর মতো।

সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, ইসরায়েল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একঘরে হয়ে পড়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা আমাদের বৈধতা ও মিত্রদের হারিয়েছি।’ দীর্ঘ সময় এভাবে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় টিকে থাকা দেশটির জন্য কঠিন হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

ইসরায়েলের স্থলবাহিনীর সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ব্রিক। তার দাবি, সেনাবাহিনী কাঠামোগত দুর্বলতা ও মনোবল ভেঙে পড়ার সংকটে রয়েছে। দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে আসা একাধিক হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতাও কমে গেছে। ক্লান্ত ও বিপর্যস্ত এই বাহিনী বড় ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কিংবা আঞ্চলিক যুদ্ধের বিস্তার ঘটলে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁর।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সতর্ক করেছেন ব্রিক। তার দাবি, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে ইসরায়েলের জাতীয় ঋণ বেড়ে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন শেকেলে পৌঁছেছে, যা প্রায় ৪৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, অস্ত্র সরবরাহে বিধিনিষেধ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক বিচ্ছিন্নতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করেন তিনি।

ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রস্তাবেরও সমালোচনা করেন ব্রিক। তিনি একে অপরিণত ও অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করেন। তার আশঙ্কা, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে ইসরায়েলি নাগরিকদের সঞ্চয়ও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

দেশটির অভ্যন্তরীণ বিভাজন প্রসঙ্গে ব্রিক বলেন, ইসরায়েলি সমাজে কেবল রাজনৈতিক মেরুকরণ নয়, বরং একধরনের ‘নীরব গৃহযুদ্ধ’ চলছে। তার দাবি, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও দক্ষ পেশাজীবীদের অনেকে দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এতে কয়েক দশক ধরে গড়ে ওঠা দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার বড় অংশ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছেন সাবেক এই জেনারেল। তার মতে, আইনের শাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ছে। যোগ্যতা ও সততার পরিবর্তে রাজনৈতিক আনুগত্য এবং প্রশ্নহীন সমর্থনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে ১২০ সদস্যের নেসেটে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি এবং আরব দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন কোনো প্রধান জোটই পায়নি। ফলে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।