...|...|...

বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ, ইতিহাস যা বলছে

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৪৬
Shares
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ, ইতিহাস যা বলছে

ছবি: এআই

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন যেমন চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত হয়, তেমনি প্রেসিডেন্টের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে দেশটিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হয়। একে বলা হয় মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন না; বরং কংগ্রেসের দুই কক্ষ—প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের আসনগুলোতে ভোট হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গভর্নর ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়।

মধ্যবর্তী নির্বাচনকে তাই শুধু কংগ্রেসের আসন বদলের লড়াই হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্টের দল কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারছে কি না, প্রশাসনের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে কতটা রাজনৈতিক সমর্থন পাচ্ছে—তারও একটি চিত্র পাওয়া যায়। ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বরের নির্বাচনও সেই বিবেচনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা।

মধ্যবর্তী নির্বাচন কী?

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ চার বছর। এই মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে, অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুই বছর পর কংগ্রেসের সদস্যদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ কারণেই একে মধ্যবর্তী নির্বাচন বলা হয়।

এ নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ৪৩৫টি আসনের সব কটিতে ভোট হয়। অন্যদিকে সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে সাধারণত প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে নির্বাচন হয়। ২০২৬ সালে সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট হচ্ছে—৩৩টি নিয়মিত নির্বাচন এবং দুটি বিশেষ নির্বাচন। এ ছাড়া ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ৩৬টিতে গভর্নর নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরা দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হন। সিনেটরদের মেয়াদ ছয় বছর; তবে সব সিনেটরের নির্বাচন একসঙ্গে হয় না। প্রতি দুই বছর পরপর সিনেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে ভোট হয়। ফলে প্রতি মধ্যবর্তী নির্বাচনেই প্রতিনিধি পরিষদের পুরো নিয়ন্ত্রণ এবং সিনেটের একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নতুন করে নির্ধারিত হয়।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচন?

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেসের নির্বাচন আলাদা। প্রেসিডেন্ট নির্বাহী বিভাগের প্রধান হলেও আইন প্রণয়নের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। কংগ্রেসের দুই কক্ষ—প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—মিলে আইন তৈরি, সরকারি ব্যয় ও বাজেট অনুমোদন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম তদারক করে।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ক্ষমতার বিভাজন ও ভারসাম্য। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার তিনটি বিভাগে বিভক্ত—নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগ। নির্বাহী বিভাগের নেতৃত্বে থাকেন প্রেসিডেন্ট, আইন বিভাগের দায়িত্বে কংগ্রেস এবং বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান সুপ্রিম কোর্ট। প্রতিটি বিভাগের আলাদা দায়িত্ব ও ক্ষমতা রয়েছে। তবে এক বিভাগ অন্য বিভাগের ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য বজায় রাখার সুযোগও রাখে।

যেমন, কংগ্রেসে পাস হওয়া কোনো বিলে প্রেসিডেন্ট ভেটো দিতে পারেন। তবে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন পেলে সেই ভেটো অতিক্রম করা সম্ভব। আবার প্রেসিডেন্ট গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিয়োগ দিলেও অনেক ক্ষেত্রে সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে আদালত কোনো আইনকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে করলে তা বাতিল ঘোষণা করতে পারে।

এই ব্যবস্থায় কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানো প্রেসিডেন্টের জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ, বিরোধী দল কংগ্রেসের কোনো একটি বা উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবিত আইন আটকে দিতে পারে, বাজেট নিয়ে দর-কষাকষি করতে পারে এবং প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ওপর তদন্ত ও শুনানির চাপ বাড়াতে পারে।

তবে কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেই প্রেসিডেন্ট ক্ষমতাচ্যুত হন না। তিনি মেয়াদের বাকি সময় দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু আইন পাস, বাজেট অনুমোদন ও নীতি বাস্তবায়নে বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতা করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এ কারণেই মধ্যবর্তী নির্বাচনকে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ও রাজনৈতিক প্রভাবের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হয়।

নির্বাচনের ইতিহাস কী বলছে?

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের সূচনা হয় ১৭৯০ সালে, প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের প্রথম মেয়াদকালে। তবে প্রথম মধ্যবর্তী নির্বাচন এক দিনে হয়নি; বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ১৭৯০ ও ১৭৯১ সালে বিভিন্ন সময়ে প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কোনো কোনো অঙ্গরাজ্যে ভোটগ্রহণ ১৭৯২ সাল পর্যন্ত গড়ায়। 

১৭৮৭ সালের মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের মেয়াদ দুই বছর। সে কারণেই প্রেসিডেন্টের চার বছরের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ব্যবস্থা তৈরি হয়।

আর ‘মধ্যবর্তী নির্বাচন’ শব্দবন্ধটির ব্যবহার শুরু হয় আরও পরে। গবেষণা অনুযায়ী, ১৮৮৬ সালে মার্কিন সংবাদপত্রে প্রথমবারের মতো শব্দটি ব্যবহারের নজির পাওয়া যায়। ১৯২০ ও ১৯৩০-এর দশকে শব্দটির ব্যবহার আরও নিয়মিত হয়ে ওঠে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ইতিহাসে একটি প্রবণতা বেশ স্পষ্ট—প্রেসিডেন্টের দল সাধারণত এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদে আসন হারায়। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৯৩৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ২২টি মধ্যবর্তী নির্বাচনের মধ্যে ২০টিতেই প্রেসিডেন্টের দল প্রতিনিধি পরিষদে আসন হারিয়েছে। ব্যতিক্রম ছিল ১৯৯৮ ও ২০০২ সালের নির্বাচন।

ইতিহাসের কয়েকটি নির্বাচন এই প্রবণতা ও এর ব্যতিক্রমগুলো বুঝতে সাহায্য করে।

১৮৭৪ সালের নির্বাচন: প্রেসিডেন্ট ইউলিসিস এস গ্রান্টের রিপাবলিকান দল প্রতিনিধি পরিষদে বড় ধরনের আসন হারায়। ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, ওই নির্বাচনে রিপাবলিকানরা ৯৬টি আসন হারায়।

১৮৯৪ সালের নির্বাচন: প্রেসিডেন্ট গ্রোভার ক্লিভল্যান্ডের ডেমোক্র্যাট দল বড় ধাক্কা খায়। প্রতিনিধি পরিষদে দলটি ১২৫টি আসন হারায়। বিপরীতে রিপাবলিকানরা ১৩০টি আসন বাড়িয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় আসন পরিবর্তনের ঘটনা।১৯৪৬ সালের নির্বাচন: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মূল্যস্ফীতি, শ্রমিক অসন্তোষ ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষের মধ্যে প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যানের ডেমোক্র্যাট দল প্রতিনিধি পরিষদে ৫৬টি আসন হারায়। এতে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পায়।

১৯৯৪ সালের নির্বাচন: প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের প্রথম মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদে ৫৪টি আসন বাড়িয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। প্রায় চার দশক পর দলটি প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়। একই নির্বাচনে সিনেটেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে রিপাবলিকানরা।

২০০২ সালের নির্বাচন: মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচলিত প্রবণতার ব্যতিক্রম ঘটে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের সময়। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার পর জাতীয় নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বুশ প্রশাসনের প্রতি জনসমর্থন বেড়েছিল। ওই নির্বাচনে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে আসন বাড়িয়ে নেয়।

২০১০ সালের নির্বাচন: প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রথম মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদে ৬৪টি আসন হারায়। রিপাবলিকানরা বড় ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

২০১৮ সালের নির্বাচন: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদে ৪২টি আসন হারায়। ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পায়। তবে সিনেটে রিপাবলিকানরা আসন বাড়াতে সক্ষম হয়। অর্থাৎ একই নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষে ভিন্ন দলের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।

২০২২ সালের নির্বাচন: প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ডেমোক্র্যাট দল প্রতিনিধি পরিষদে ৯টি আসন হারায়। রিপাবলিকানরা সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। তবে সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সক্ষম হয়।

এই ঘটনাগুলো দেখায়, মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের দলের আসন হারানো সাধারণ ঘটনা হলেও সব সময় দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ একই দলের হাতে যায় না। আবার ২০০২ সালের মতো ব্যতিক্রমও রয়েছে। অর্থাৎ নির্বাচনের ফল নির্ভর করে তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অর্থনীতি, জনমত, প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা ও প্রার্থীদের অবস্থানের ওপর।

 

২০২৬ সালের নির্বাচনে কী ঝুঁকিতে?

৩ নভেম্বরের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন এবং সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট হচ্ছে। বর্তমানে দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ফলে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের এই ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যেতে পারে।

প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুব বেশি নয়। ফলে অল্প কয়েকটি আসনের পরিবর্তনেই কক্ষটির নিয়ন্ত্রণ বদলে যেতে পারে। সিনেটেও দুই দলের মধ্যে ব্যবধান সীমিত। তাই উভয় কক্ষের ফলই ট্রাম্প প্রশাসনের বাকি দুই বছরের নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্ত ও শুনানি বাড়তে পারে। আইন পাস এবং সরকারি ব্যয় অনুমোদনের ক্ষেত্রেও ট্রাম্প প্রশাসনকে বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে। আর সিনেটের নিয়ন্ত্রণ বদলালে প্রেসিডেন্টের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ ও বিচারপতি মনোনয়নের অনুমোদন প্রক্রিয়াও প্রভাবিত হতে পারে।

তবে কংগ্রেসের একটি কক্ষ বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালেও প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা শেষ হয়ে যায় না। বরং ক্ষমতার বিভাজন ও ভারসাম্যের কাঠামোর মধ্যে থেকে তাঁকে বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করতে হয়।

ইতিহাসের শিক্ষা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ইতিহাস বলছে, প্রেসিডেন্টের দল সাধারণত এই নির্বাচনে আসন হারায়। তবে প্রতিটি নির্বাচনই একই ফল বয়ে আনে না। কখনো জনমত, কখনো জাতীয় সংকট, আবার কখনো অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রচলিত ধারাকে বদলে দিয়েছে।

তাই ২০২৬ সালের নির্বাচন শুধু রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে আসন ভাগাভাগির লড়াই নয়; এটি ট্রাম্প প্রশাসনের বাকি মেয়াদে আইন প্রণয়ন, বাজেট, নিয়োগ ও নীতিনির্ধারণের ক্ষমতার ভারসাম্যও নির্ধারণ করবে। নির্বাচনের ফল শেষ পর্যন্ত দেখাবে, মার্কিন ভোটাররা বর্তমান প্রশাসনের প্রতি কতটা সমর্থন ধরে রেখেছেন এবং কংগ্রেসে কোন দলকে বেশি প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দিতে চান।