নেপাল ও তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিধস ও হড়পা বানের পর এবার তিব্বতের উজানে একটি প্রলয়ংকরী বা অবরুদ্ধ হ্রদ আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বেইজিংয়ের কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এনডিটিভির বরাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি-র প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, নেপালের সাথে সীমান্ত এলাকায় এক বিশাল ভূমিধসের ফলে সৃষ্ট বিধ্বংসী আকস্মিক বন্যায় তিব্বত অংশে অন্তত ৫৫৮ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানিয়েছেন যে, নেপাল অংশেও প্রায় ১০০ জন চীনা নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।
এর আগে, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল যে, তিব্বত অঞ্চল ও নেপালের সীমান্তের গ্যিরংয়ের কাছে লেন্দে নদীতে কাদা ও পাথরের বিশাল পাহাড় ধসে পড়ার ফলে অন্তত তিনজন মারা গেছেন। হঠাৎ এই পানির ঢল ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী—এই দুই নদীর তীরবর্তী গ্রাম ও শহরগুলোতে আঘাত হানে। এর ফলে নেপালের ভাটি অঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৭৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, শত শত মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন এবং ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো ভেসে গেছে।
সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতীয় অংশের বিপদসীমার মধ্যে থাকা আশেপাশের গ্রামগুলো থেকে লোকজনকে ইতোমধ্যে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং দু'জন গ্রামবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
সিসিটিভি জানিয়েছে, হিমালয় সীমান্ত পারাপারের উজানে থাকা একটি অবরুদ্ধ হ্রদের কারণে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা উদ্ধারকাজকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে বেইজিংয়ের কর্তৃপক্ষ চিহ্নিত করেছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগস্থলের উত্তর-পূর্বে ছোচেন খোলা এবং পুরেপু সাংপো নদীর সংযোগস্থলে অবস্থিত এই হ্রদটির ওপর নজরদারি ও মূল্যায়ন বাড়িয়ে দিয়েছে চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা এবং দ্বিতীয় আরেকটি দুর্যোগ রোধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সিসিটিভি জানায়, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি ধারণক্ষমতার এই অবরুদ্ধ হ্রদটি ইতোমধ্যেই উপচে পড়ছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে হ্রদটিতে আরও ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি প্রবেশ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় চীন ইতোমধ্যে বেইজিং ও চেঙ্গু থেকে ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দলগুলোকে স্থানীয় পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা করার জন্য মোতায়েন করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্যিরং শহরের কেন্দ্রীয় শহুরে অঞ্চলে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা সম্ভব হলেও সীমান্ত বন্দরের সঙ্গে সংযোগকারী লাইনগুলো এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
নেপাল ও তিব্বতের এই বিপর্যয় কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বিশ্বের অন্যতম জনবহুল অঞ্চলের সম্প্রদায়, অবকাঠামো এবং পানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলছে ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীল হিমালয় বরফ ব্যবস্থা।
এর আগে, ২০২৫ সালের আগস্টেও এই অঞ্চলে অনুরূপ হড়পা বান দেখা দিয়েছিল, যখন উচ্চ তাপমাত্রার কারণে তিব্বতের একটি হিমবাহ হ্রদ উপচে পড়েছিল। সে সময় ৯ জন মারা গিয়েছিলেন এবং নেপাল ও চীনকে সংযোগকারী একটি সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

