ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে দেশটির সরকারি সেনাবাহিনী। ‘অপারেশন ডন অব ইয়েমেন’-এর অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় হুথিদের অবস্থান ও যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে ৯৫১টি অভিযান চালানোর দাবি করেছে তারা। এসব অভিযানে প্রায় ৩৩২ জন হুথি ফিল্ড কমান্ডার ও যোদ্ধাকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী। বাতাংসস্থা আনাদোলু এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আল-নুজাইলি।
বিবৃতিতে বলা হয়, আল-জউফ, মারিব ও আল-বায়দাসহ বিভিন্ন রণাঙ্গনে পরিচালিত অভিযানে হুথিদের ৫৬টি যানবাহন, বিভিন্ন সরঞ্জাম ও অস্ত্র ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশেও সরকারি বাহিনী হুথিদের হামলার জবাব দিচ্ছে। সেখানে বিদ্রোহীদের অবস্থান, গতিবিধি এবং হামলার উৎসস্থল লক্ষ্য করে আঘাত হানা হচ্ছে বলে জানান আল-নুজাইলি।
তিনি আরও বলেন, আল-জউফের পুনরুদ্ধার করা এলাকাগুলোতে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক প্রকৌশলীরা মাইন ও বিস্ফোরক দ্রব্য অপসারণের কাজ করছেন। তবে সেনাবাহিনীর এসব দাবির বিষয়ে হুথিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে সামরিক সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়ে ওঠে। এতে হাজার হাজার মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং আড়াই লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে দেশটিতে বজায় থাকা তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির অবসান ঘটেছে। চলমান লড়াই ও বাস্তুচ্যুতির ফলে ইয়েমেনের মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে।
২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে হুথিরা রাজধানী সানা ও কয়েকটি প্রদেশ দখল করে নিলে ইয়েমেনে যুদ্ধ শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের মার্চে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থনে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন একটি জোট সামরিক হস্তক্ষেপ করে।


