...|...|...

রাজনীতি

হিযবুত তাওহীদ নিষিদ্ধ ও কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার দাবি হেফাজত আমিরের

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, রাত ১১:১৮ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:৩৩
Shares
হিযবুত তাওহীদ নিষিদ্ধ ও কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার দাবি হেফাজত আমিরের

হিযবুত তাওহীদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী। একই সঙ্গে দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের আলোকে লিঙ্গপরিচয় ও ট্রান্সজেন্ডার সংক্রান্ত আইন ও নীতিমালা পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত জাতীয় উলামা-মাশায়েখ কনভেনশনে পাঠানো লিখিত বক্তব্যে এসব দাবি জানান তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হতে না পারায় তার বক্তব্য পাঠ করে শোনানো হয়।

‘ঈমান-আকিদা সংরক্ষণ কমিটি’ আয়োজিত এ কনভেনশনে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকিদা ও ইসলামের মৌলিক আদর্শ সংরক্ষণের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়। সম্মেলনে ট্রান্সজেন্ডারবান্ধব শ্রম আইন বাতিলের দাবিও জানানো হয়।

মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, বর্তমান সময়ে ঈমান-আকিদা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এ পরিস্থিতিতে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে সঠিক আকিদা সংরক্ষণ এবং বিভ্রান্তিকর মতাদর্শ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা জরুরি।

কাদিয়ানীদের প্রসঙ্গে হেফাজত আমির বলেন, ইসলামের সর্বসম্মত আকিদা অনুযায়ী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সর্বশেষ নবী ও রাসুল। তার পরে আর কোনো নবী আসবেন না। কাদিয়ানী সম্প্রদায় মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীকে নবী দাবি করে খতমে নবুয়তের মৌলিক আকিদা অস্বীকার করেছে।

তিনি বলেন, কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করা এবং তাদের প্রচারণা থেকে সাধারণ মুসলমানদের রক্ষা করা সময়ের দাবি।

হিযবুত তাওহীদের বিভিন্ন বক্তব্য, প্রচার ও ধর্মীয় ব্যাখ্যা নিয়ে আলেমসমাজের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে দাবি করে মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, সংগঠনটির কিছু মতাদর্শ ও প্রচারণা প্রচলিত ইসলামী আকিদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

ধর্মীয় শান্তি, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও আকিদাগত নিরাপত্তার স্বার্থে সংগঠনটির কার্যক্রম ও প্রচারণার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মওদূদীবাদের মতাদর্শ নিয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান হেফাজত আমির। তিনি বলেন, ইসলামের সঠিক ভাবমূর্তি ও সালাফে সালেহীনের পথ অক্ষুণ্ন রাখতে মওদূদীবাদের মতাদর্শিক ভুল ও বিভ্রান্তি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে হবে।

ইসলামি সমাজব্যবস্থা কোরআন-সুন্নাহ ও আসলাফের মানহাজ অনুযায়ী গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

দেশের আইন প্রণয়নে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, বাংলাদেশের সমাজ, সংস্কৃতি, পরিবারব্যবস্থা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইন প্রণয়ন করা জরুরি।

লিঙ্গপরিচয়, আন্তঃলিঙ্গ ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট অধিকার নিয়ে যেসব বিধান বা নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে, সেগুলো দেশের আইন, সামাজিক বাস্তবতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জনমতের আলোকে পর্যালোচনার আহ্বান জানান তিনি।

তবে একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তির প্রতি অন্যায়, বৈষম্য বা অবমাননা না করার বিষয়টিও নিশ্চিত করার কথা বলেন হেফাজত আমির। তিনি বলেন, ইসলাম মানুষের মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও অধিকার রক্ষার শিক্ষা দেয়। তাই এসব বিষয়ে অবস্থান নীতিনিষ্ঠ, শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত হওয়া উচিত।

সম্মেলনে সমাজে ঈমান ও আমল শক্তিশালী করা, পরিবারব্যবস্থা সুদৃঢ় করা এবং তরুণ প্রজন্মকে নৈতিক ও আদর্শিকভাবে সমৃদ্ধ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি শান্তি, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সম্মান প্রতিষ্ঠায় ওলামায়ে কেরামের ঐক্য জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।