সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভায় নতুন করে যুক্ত হয়েছেন চারজন মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের শপথবাক্য পাঠ করান।
শপথ শেষে রাতেই দফতর বণ্টন করা হয়, আর সেখানেই ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।
এই সিদ্ধান্তের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আপত্তি জানিয়ে বিবৃতি দেয় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক মুফতী কিফায়াতুল্লাহ আজহারী স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে নিয়োগ নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
একই সঙ্গে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করে অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানায় সংগঠনটি।
হেফাজতের মূল অভিযোগ, শামীম কায়সার লিংকন দেশের প্রচলিত পীর-মাশায়েখ, তাবলিগ জামাত এবং ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত চার মাযহাবের চেতনার বিপরীত ধারার মতাদর্শ ধারণ করেন। সংগঠনটির ভাষ্যে, ধর্ম মন্ত্রণালয় একটি বিশেষায়িত ও সংবেদনশীল জায়গা, তাই এখানে এমন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত যিনি ইসলামী মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আলেম সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য।
বিবৃতিতে সরকারকে সতর্কও করে হেফাজত। তাদের ভাষ্য, কওমি আলেম সমাজ ও তৌহীদি জনতার পরামর্শ ও অবদানকে পাশ কাটিয়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হলে আলেমদের সঙ্গে সরকারের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সংগঠনটির নেতারা এ-ও জানান, এই নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়ার আগেই গত বৃহস্পতিবার ‘সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ বাংলাদেশ’-এর এক সংবাদ সম্মেলনেও একই আপত্তি তোলা হয়েছিল।
হেফাজতের দাবি, ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত না হলে তা ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি করতে পারে। এ কারণে আলেম-উলামাদের সঙ্গে আলোচনা করে যোগ্য, অভিজ্ঞ ও সর্বজনগ্রাহ্য কাউকে এই পদে বসানোর আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
উল্লেখ্য, শামীম কায়সার লিংকনের পাশাপাশি একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।


