বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করলেও ভারত, চীন, কাতার ও ইরাকের জাহাজকে বিশেষ ছাড় দিচ্ছে ইরান। এর বিনিময়ে দেশগুলোর কাছ থেকে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সুবিধা পেতে চাইছে তেহরান। বিশেষ করে ভারতের কাছ থেকে ওষুধ এবং চীনের কাছ থেকে রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
রবিবার (৮ নভেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
গত সপ্তাহে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির উপপ্রধান আমির হায়াত মোকাদ্দাম জানান, হরমুজ প্রণালীতে আরোপিত বিধিনিষেধ থেকে ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের জাহাজগুলোকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই সুবিধার বিনিময়ে ভারত থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ পাবে ইরান। অন্যদিকে চীনের কাছ থেকে পাওয়া যাবে রাজনৈতিক সমর্থন। তবে ছাড় পেলেও ভারত ও চীনের জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের জন্য নির্ধারিত মাশুল দিতে হবে।
বিপরীতে কাতারের জাহাজগুলো কোনো ধরনের মাশুল ছাড়াই এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ব্যবহার করতে পারবে। তবে ইরাকের জাহাজকে ছাড় দেওয়ার বিনিময়ে নির্দিষ্ট কোনো সুবিধার কথা উল্লেখ করেননি ইরানি কর্মকর্তা।
ইরানের এই পদক্ষেপকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা।
অস্ট্রিয়ার সাবেক লিবিয়াস্থ প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুস্তাই আল-জাজিরাকে বলেন, বিভিন্ন কারণে তেহরানের এটি একটি বুদ্ধিদীপ্ত পদক্ষেপ।
তার মতে, পরিকল্পনাটি সফল হলে ইরানের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আয়ের সুযোগ তৈরি হবে। কারণ, ইরানি অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। দেশটি ইরানের মোট রপ্তানি করা তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ কিনে থাকে।
ফলে চীনা জাহাজের কাছ থেকে হরমুজ প্রণালী ব্যবহারের মাশুল আদায় করতে পারলে ইরান বড় অঙ্কের অর্থ আয় করতে পারে।
বিশ্লেষক পুস্তাই আরও বলেন, ভারত ও কাতারকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে চলমান সংঘাতে ওয়াশিংটনের কৌশলের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা দুর্বল করারও চেষ্টা করছে ইরান।
বিশেষ করে কাতার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করে। দেশটির এলএনজির ক্রেতাও অনেক। ফলে কাতারের জাহাজকে বিনা মাশুলে চলাচলের সুযোগ দেওয়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
তার মতে, ভারত ও কাতারের মতো দেশগুলোকে এই ব্যবস্থার আওতায় এনে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের প্রতি সমর্থন কমানোর চেষ্টা করছে। বিশেষ করে কাতারকে সম্পূর্ণ মাশুলমুক্ত সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত সেই প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালীতে চার দেশকে বিশেষ ছাড় দেওয়ার মাধ্যমে ইরান একদিকে রাজস্ব আয়ের সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে ওষুধ ও রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলকে চ্যালেঞ্জ করার চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।


