...|...|...

বিশ্ব

সাইবার হামলার ঝুঁকিতে বিশ্বজুড়ে বহু ওয়েবসাইট বন্ধ

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, রাত ২:৫২
Shares
সাইবার হামলার ঝুঁকিতে বিশ্বজুড়ে বহু ওয়েবসাইট বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার আশঙ্কায় বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। ওয়েবসাইট পরিচালনায় বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এসব ত্রুটি কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা পাসওয়ার্ড ছাড়াই সার্ভারে প্রবেশ এবং সংরক্ষিত তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ পেতে পারে।

পিএইচপি প্রকল্পের ডেভেলপাররা গত বুধবার ত্রুটিগুলো সংশোধনের জন্য নিরাপত্তা আপডেট প্রকাশ করেছেন। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত এই আপডেট ইনস্টল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আপডেট করা সম্ভব না হলে ঝুঁকিপূর্ণ সিস্টেমের ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখারও সুপারিশ করা হয়েছে।

বিশ্বের বিপুলসংখ্যক ওয়েবসাইটে পিএইচপি ব্যবহৃত হয়। ফলে এই ত্রুটির প্রভাব অনলাইন মার্কেটপ্লেস, সংবাদমাধ্যম, সরকারি সেবাসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পড়তে পারে।

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান উইজের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইটে পিএইচপি ব্যবহৃত হয়। প্রতিষ্ঠানটি নিরাপত্তা ত্রুটিগুলোকে পিএইচপির ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য দুর্বলতাগুলোর মধ্যে অন্যতম বলে বিবেচনা করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ) সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবিলম্বে নিরাপত্তা আপডেট করার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির ভাষ্য, এসব দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে আক্রমণকারীরা সার্ভারের ফাইল ও ডেটাবেজে প্রবেশ করতে পারে। এমনকি কিছু পরিস্থিতিতে সার্ভারের নিয়ন্ত্রণও নেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

পিএইচপি ফাউন্ডেশনের নিরাপত্তা প্রকৌশলী ভলকার ডুশ ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে পিএইচপি এবার গুরুতর নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তিনি ২০১৪ সালে আলোচনায় আসা ‘হার্টব্লিড’ নিরাপত্তা ত্রুটির সাথে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত আগস্টে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যালিফ ওপেনএআইয়ের তৈরি একটি এআই মডেল ব্যবহার করে ত্রুটিগুলো শনাক্ত করে। ওপেনএআইয়ের অর্থায়নে পিএইচপির কোড পর্যালোচনার সময় এ দুর্বলতাগুলো সামনে আসে। কয়েক সপ্তাহ পর গুগলের মালিকানাধীন সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান উইজও নিজস্ব অনুসন্ধানে একই ত্রুটি শনাক্ত করে। এ কাজে তারা গুগলের জেমিনি ও ওপেনএআইয়ের জিপিটি মডেল ব্যবহার করে বলে জানিয়েছে।

ওপেনএআইয়ের মতে, এ ঘটনা সাইবার নিরাপত্তায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখন এমন সফটওয়্যার দুর্বলতাও শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে, যার প্রভাব বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবস্থায় পড়তে পারে।

এদিকে নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় ইউরোপের কয়েকটি দেশ তাদের গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার পরামর্শে বুধবার বিকেল থেকে স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন ওয়েবসাইট অফলাইনে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্যারিস পুলিশের ওয়েবসাইটও রয়েছে।

নেদারল্যান্ডসের জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনওএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির ডিজিটাল পরিচয় যাচাই সেবা ডিজিডি, প্রতিনিধি পরিষদের ওয়েবসাইট এবং জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্রের ওয়েবসাইট সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

বেলজিয়ামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে। তবে দেশটির জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্র জানিয়েছে, ওই সময় পর্যন্ত বেলজিয়ামের কোনো ওয়েবসাইটে হামলার তথ্য নথিভুক্ত হয়নি।

অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবিসি জানিয়েছে, দেশটির সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা অস্ট্রেলিয়ান সিগন্যালস ডিরেক্টরেটের ওয়েবসাইট সাইবার ডট গভ ডট এইউ-ও এ নিরাপত্তা দুর্বলতার প্রভাবের মুখে পড়া ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পিএইচপি ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য দ্রুত নিরাপত্তা আপডেট ইনস্টল করা এবং সার্ভারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা জরুরি। একই সাথে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে সংশ্লিষ্ট সিস্টেমের ওপর নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।