চীনে বিদেশি নাগরিকদের যাতায়াত এবং পর্যটকদের আগমন চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অভূতপূর্ব হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে কেবল ভিসা ছাড়া দেশটিতে প্রবেশ করেছেন প্রায় ৯০ লাখ বিদেশি নাগরিক।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দেশটির ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
চায়না ডেইলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিবাসন প্রশাসনের মুখপাত্র ল্যু নিং জানান যে, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত চীন কর্তৃপক্ষ মোট ১৯ কোটি ২০ লাখ আন্তঃসীমান্ত ভ্রমণ বা যাতায়াত পরিচালনা করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭.৯ শতাংশ বেশি।
ভিসামুক্ত নীতি ও যাতায়াতের পরিসংখ্যান মোট যাতায়াতকারীদের মধ্যে—
· মূল ভূখণ্ডের বাসিন্দারা ভ্রমণ করেছেন ৯ কোটি ৫৯ লাখ ৬০ হাজার বার (৭.৪ শতাংশ বেশি)।
· হংকং, ম্যাকাও ও তাইওয়ানের বাসিন্দারা করেছেন ৭ কোটি ৩১ লাখ ৪০ হাজার বার (৬.৪ শতাংশ বেশি)।
· বিদেশি নাগরিকরা করেছেন ২ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার বার (১৫.৬ শতাংশ বেশি)।
মুখপাত্র ল্যু নিং জানান, চীন ও বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে যাতায়াত সহজ করার উদ্দেশ্যে নেওয়া ভিসা-মুক্ত নীতিসহ বিভিন্ন সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলেই এই আন্তঃসীমান্ত ভ্রমণ ধারাবাহিকভাবে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। আলোচ্য সময়ে বিদেশি নাগরিকরা চীনে ১ কোটি ১৬ লাখ বার যাতায়াত করেছেন, যার মধ্যে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করা পর্যটকরা মোট বিদেশি আগমনের ৭৭.৫ শতাংশ জুড়ে রয়েছে।
শীর্ষ ১০ দেশ ও বিদেশভ্রমণ
চীনে আগমনকারী বিদেশি নাগরিকদের শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় রয়েছে—রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, মঙ্গোলিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া।
অন্যদিকে, তৃতীয় প্রান্তিকে মূল ভূখণ্ডের বাসিন্দারা বিদেশে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৫০ হাজার ট্রিপ বা যাতায়াত সম্পন্ন করেছেন, যা গত বছরের তুলনায় ৭.৫ শতাংশ বেশি। তাদের শীর্ষ ১০ গন্তব্যের মধ্যে ছিল—হংকং ও ম্যাকাও বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, জাপান, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, রাশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া।
পাসপোর্ট ইস্যু ও সীমান্ত নিরাপত্তা
এই তিন মাসে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ মূল ভূখণ্ডের বাসিন্দাদের জন্য ৫৩ লাখ ৪০ হাজার সাধারণ পাসপোর্ট এবং হংকং, ম্যাকাও ও তাইওয়ানগামী যাত্রীদের জন্য ২ কোটি ৮৭ লাখ ৯০ হাজার ভ্রমণ অনুমতি ও ছাড়পত্র প্রক্রিয়াজাত করেছে।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর স্টেট কাউন্সিলের প্রস্থান ও প্রবেশ প্রশাসন সংক্রান্ত নতুন প্রবিধান কার্যকর হওয়ার পর দেশজুড়ে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ মধ্যস্থতাকারী সেবা প্রদানকারী সংস্থ ও ব্যক্তিদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করে। গত ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত ১ হাজার ২০০টিরও বেশি এজেন্সি এবং প্রায় ৬ হাজার ব্যক্তি এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।
সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ক্ষুণ্নকারী অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং প্রস্থান-প্রবেশ প্রশাসনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অপরাধ দমনে পুরো চেইন বা সমন্বিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। দেশব্যাপী এই প্রান্তিকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ ৪ হাজার ৪৩২টি মামলা তদন্ত করেছে এবং ১২ হাজারের বেশি সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া বন্দর ও সীমান্ত এলাকায় অস্ত্র, বিস্ফোরক, মাদক চোরাচালান ও অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৮৮০ কেজি মাদক এবং ৪০২টি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়েছে বলে জানান ল্যু নিং।


