...|...|...

জাতীয়

সংসদে বিল পাস

সম্পত্তি দান করলেও আজীবন ভোগের অধিকার পাবেন বাবা-মা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৯:৪৯ | আপডেট: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৮:২৯
Shares
সম্পত্তি দান করলেও আজীবন ভোগের অধিকার পাবেন বাবা-মা

ছবি: সংগৃহীত

সন্তান বা নাতি-নাতনির নামে সম্পত্তি দান করার পরও জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ করার অধিকার পাবেন বাবা-মা বা দাদা-দাদি ও নানা-নানি। এ সংক্রান্ত বিধান যুক্ত করে সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধনের একটি বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

তবে বিলটি পাসের আগে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে। অন্যদিকে, সরকারি দলের সদস্যরা বাবা-মা ও প্রবীণদের স্বার্থ সুরক্ষায় নতুন বিধানকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

পাস হওয়া সংশোধনী অনুযায়ী, পিতা-মাতা, পিতামহ বা মাতামহ তাদের সন্তান কিংবা নাতি-নাতনির নামে সম্পত্তি দান করতে পারবেন এবং জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তির ভোগাধিকার নিজের কাছে রাখতে পারবেন। একই ধরনের বিধান সন্তান বা নাতি-নাতনির পক্ষ থেকেও ঊর্ধ্বতন আত্মীয়দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও এ সুবিধা কার্যকর হবে।

আইনে আরও বলা হয়েছে, দাতা জীবিত থাকা অবস্থায় সম্পত্তি গ্রহণকারী ব্যক্তি মারা গেলে দাতার ভোগাধিকার বহাল থাকবে। আর সম্পত্তির মালিকানা প্রচলিত আইন অনুযায়ী মৃত গ্রহীতার আইনগত ওয়ারিশদের কাছে চলে যাবে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে বিভিন্নভাবে সম্পত্তি দানের বিধান থাকলেও দাতা নিজের জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তি ভোগ করার অধিকার সংরক্ষণ করে দানের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বিধান ছিল না।

নতুন আইনের মাধ্যমে ‘জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে সম্পত্তি দান’ একটি পৃথক ও স্বতন্ত্র পদ্ধতি হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। এই বিধান দেশের সব ধর্মের মানুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে বলে বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, নতুন এই বিধান প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের অধীন হেবা কিংবা অন্যান্য আইনসম্মত সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতিকে প্রভাবিত করবে না। ফলে বিদ্যমান আইনগুলোর সাথে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সুযোগ নেই বলেও দাবি করা হয়েছে।

এর আগে বিলটির বিরোধিতা করে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন দাবি করেন, প্রস্তাবিত বিধান কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশনার সাথে সাংঘর্ষিক।

তিনি অভিযোগ করেন, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় বিধানের বাইরে কোনো আইন প্রণয়ন করা হবে না—এমন অঙ্গীকার অতীতে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা করেছিলেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির সাথে অসামঞ্জস্য রেখে বিলটি পাস করা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিলটির বিরোধিতা করে তিনি আরও বলেন, দেশের কয়েকজন বিশিষ্ট আলেম ও ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞের মতে, আজীবন ভোগদখলের অধিকার রেখে সম্পত্তি দানের এই ব্যবস্থা ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তার ভাষ্য, এ ধরনের বিধান প্রয়োগের মাধ্যমে ইসলামে নির্ধারিত মিরাস বা উত্তরাধিকার বণ্টনের নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিলটি নিয়ে সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে ভিন্নমত দেখা দিলেও শেষ পর্যন্ত কণ্ঠভোটে সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাস হয়।