...|...|...

জাতীয়

বিয়ে নিবন্ধনে আসছে বড় পরিবর্তন, কমবে তথ্য গোপনের সুযোগ

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮:১৬ | আপডেট: ৩ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১০:১৯
Shares
বিয়ে নিবন্ধনে আসছে বড় পরিবর্তন, কমবে তথ্য গোপনের সুযোগ

ছবি: সংগৃহীত

বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও আধুনিক করতে অনলাইনভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন এই ব্যবস্থায় বৈবাহিক তথ্য গোপন করে পুনরায় বিয়ে, বাল্যবিবাহ এবং অননুমোদিত বহুবিবাহের মতো অনিয়ম শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা সহজ হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে (বিএলসি) ‘অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনে সফটওয়্যারের ব্যবহারবিধি এবং প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি’ শীর্ষক ১০ দিনব্যাপী আবাসিক প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, নতুন ব্যবস্থায় বৈবাহিক সম্পর্কের তথ্য একটি সমন্বিত ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা হবে। ফলে দেশের যেকোনো স্থান থেকে এমনকি বিদেশ থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত যাচাই করা সম্ভব হবে। একজন ব্যক্তি আগে বিয়ে করেছেন কিনা, করলে কতটি বিয়ে করেছেন এবং নতুন বিয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কিনা, সেসব তথ্যও যাচাই করা যাবে।

তার ভাষ্য, অনলাইন নিবন্ধন চালু হলে তথ্য গোপন করে বিয়ে করা, গোপন বিয়ের বিষয়টি পরে অস্বীকার করা কিংবা আগের বৈবাহিক সম্পর্ক লুকানোর সুযোগ কমে আসবে। একই সাথে সম্ভাব্য জীবনসঙ্গীও একজন নারী বা পুরুষের আগের বিয়ের তথ্য জেনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে বহুবিবাহের প্রবণতা কমানোর ক্ষেত্রেও ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

মন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের বৈবাহিক সম্পর্কের তথ্য নির্ভরযোগ্য ও সমন্বিতভাবে সংরক্ষণ করা হলে প্রতিবছর কতটি বিয়ে হচ্ছে, বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটছে কিনা এবং সংশ্লিষ্ট আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ হচ্ছে কিনা-এসব বিষয় পর্যবেক্ষণ করা সহজ হবে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার স্ত্রী বা সন্তান হিসেবে একাধিক ব্যক্তি দাবি করলে নিবন্ধিত তথ্যের মাধ্যমে প্রকৃত সম্পর্ক যাচাই করা সম্ভব হবে। এতে এ ধরনের বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমার সম্ভাবনাও কমবে। বিদেশে যাওয়ার সময় বৈবাহিক সম্পর্কের তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনলাইনেই তা যাচাই করতে পারবে। ফলে বিভিন্ন সরকারি দফতরে গিয়ে তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজন কমবে।

পর্যায়ক্রমে বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টসহ অন্যান্য সরকারি তথ্যভান্ডারের সাথে আন্তঃসংযোগের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, সরকারি তথ্যব্যবস্থাগুলো সমন্বিত ও পরস্পরের সাথে সংযুক্ত করা গেলে নাগরিকের পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট তথ্য দ্রুত যাচাই করা সম্ভব হবে। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকেও এগিয়ে যেতে হবে।

‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিক্স : বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক পাইলট প্রকল্পের আওতায় এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। এতে পাঁচ জেলার ২৭ জন বিবাহ ও তালাক নিবন্ধক বা নিকাহ রেজিস্ট্রার অংশ নিচ্ছেন। প্রশিক্ষণে অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের সফটওয়্যার ব্যবহার, নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা ও তথ্য সংরক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবহারিক ধারণা দেওয়া হচ্ছে।

নিকাহ রেজিস্ট্রারদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, তারা সমাজে একটি সম্মানজনক ও মর্যাদাপূর্ণ পেশার সাথে যুক্ত। অনলাইন নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করতে তাদের দক্ষতা ও প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা নিজেরা দক্ষ হওয়ার পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকার অন্য নিকাহ রেজিস্ট্রারদেরও প্রস্তুত করবেন। পর্যায়ক্রমে দেশের সব নিকাহ রেজিস্ট্রারকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।

সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ঢাকা জেলার সাব-রেজিস্ট্রারদের পদায়নে লটারি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তার মতে, নিয়ম মেনে লটারির মাধ্যমে পদায়ন করা হলে দীর্ঘদিন একই স্থানে দায়িত্ব পালন এবং পদায়ন নিয়ে তদবিরের সুযোগ কমবে। নিকাহ রেজিস্ট্রারদের ক্ষেত্রেও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সাথে তাদের উত্তরসূরিরা যাতে এই পেশায় আসার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাওয়ার সুযোগ পান, সে জন্য যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লার সভাপতিত্বে অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েস ও এসএম এরশাদুল আলম, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন, নিবন্ধন অধিদফতরের মহাপরিদর্শক শামীমা আফরোজ, প্রকল্প পরিচালক মো. আজিজুল হক, ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির পরিচালক শ্বাশ্বতী বিপ্লবসহ আইন ও বিচার বিভাগ এবং ব্র্যাকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।