...|...|...

সারাদেশ

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড

শেষবারের মতো ছেলেকে দেখতে চান নজরুলের বাবা-মা

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৩:৪২
Shares
শেষবারের মতো ছেলেকে দেখতে চান নজরুলের বাবা-মা

শেষবারের মতো ছেলেকে দেখতে চান নজরুলের বাবা-মা। ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে ছেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পাওয়ার পর থেকে কান্না থামছে না বাবা-মায়ের। তাদের একটাই চাওয়া, ছেলের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনা হোক, যেন শেষবারের মতো দেখতে পারেন তারা। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তার ৬৫ বছর বয়সী ফুফুও।

নিহত তরুণের নাম নজরুল ইসলাম (২৫)। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার একটি গ্রামে। তিনি আবদুল বাছির ও রহিমা বেগমের বড় ছেলে। গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পায় পরিবার।

পরিবারের বরাতে জানা যায়, ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠাতে স্বজনদের কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা ধার করেছিলেন বাবা আবদুল বাছির। ২০২০ সালে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার পর কৃষিকাজ শুরু করেন তিনি। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় ২০২২ সালের নভেম্বরে ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠান। কিন্তু সেখানে যাওয়ার আট মাসের মাথায় গ্রেফতার হন নজরুল। এরপর থেকে কারাগারেই ছিলেন তিনি। তখনো পরিবারের ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ বাকি ছিল।

নজরুল সৌদি আরবের মক্কায় মসজিদুল হারামে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। গ্রেফতারের প্রায় এক মাস পর তার পরিবার বিষয়টি জানতে পারে। এরপর মাঝেমধ্যে ফোনে বাবা-মায়ের সাথে কথা বলার সুযোগ পেতেন তিনি। গত ১১ অক্টোবর পরিবারের সাথে তার শেষ কথা হয়। ওই দিন দুই থেকে আড়াই মিনিট কথা বলেছিলেন তিনি।

এরপর গত বুধবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সৌদি আরব থেকে এক ব্যক্তি ফোন করে নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানান। এ খবর শোনার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন তার ফুফু আবেদা বেগম। রাত দুইটার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পরিবার।

নজরুলের স্বজন ও বন্ধুরা দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে সৌদি আরবে আনা অভিযোগ তার স্বভাব-চরিত্রের সাথে মেলে না। তাদের ধারণা, এর পেছনে ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। নজরুলের দুই দূরসম্পর্কের চাচাতো ভাই মোস্তাকিম ভূঁইয়া ও ইমাম হাসান ভূঁইয়া জানান, সৌদি আরবে কাজ করার সময় এক ব্যক্তির সাথে নজরুলের বিরোধ হয়েছিল। ফোনে তিনি এ বিষয়ে তাদের জানিয়েছিলেন। ওই ব্যক্তি পাকিস্তানের নাগরিক ছিলেন বলে নজরুল তাদের বলেছিলেন।

নজরুলের বন্ধু রাহাত ভূঁইয়া বলেন, তার বন্ধুর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বিশ্বাস করা কঠিন। স্থানীয় দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা নাঈমুর রহমানও নজরুলকে ভদ্র ও ভালো আচরণের ছেলে হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

সোমবার সকালে নজরুলের বাড়িতে গিয়ে তার বাবা আবদুল বাছিরকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। বাছির বলেন, ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠাতে আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা ধার করেছিলেন। প্রথম সাত-আট মাসে নজরুল বাড়িতে প্রায় দেড় লাখ টাকা পাঠিয়েছিলেন। এরপর তিন বছর কারাগারে কাটাতে হয় তাকে।

ছেলের মৃত্যুর খবরের পর থেকে শোকে ভেঙে পড়েছেন মা রহিমা বেগমও। তিনি বলেন, ছেলে মাসে একবার ফোন করত। এক-দুই মিনিট কথা হতো। ছেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে তিনি শেষবারের মতো তার লাশ দেখতে চান।

বাবা আবদুল বাছিরও এখন সেই অপেক্ষায় আছেন। ছেলের লাশ দেশে ফিরিয়ে এনে একবার দেখতে চান তিনি।