জলবায়ু পরিবর্তন, চরম আবহাওয়া, আন্তর্জাতিক সংঘাত, সরবরাহব্যবস্থার অনিশ্চয়তা এবং কৃষিশ্রমিকের সংকট- সব মিলিয়ে বিশ্বের খাদ্যব্যবস্থা নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। এমন বাস্তবতায় খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কীভাবে কম জমি, কম পানি, কম শ্রম ও কম পরিবেশগত ক্ষতির মধ্যে কৃষিকে টেকসই রাখা যায়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে জাপান বেশ কিছু ক্ষেত্রে গবেষণাগার, প্রযুক্তি ও নীতিকে একসাথে কাজে লাগাচ্ছে। বিশেষ করে ধান উৎপাদনে দেশটির ইয়ামাগাতা প্রিফেকচারের অভিজ্ঞতা এশিয়ার ধাননির্ভর দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
জাপানের সামগ্রিক খাদ্যস্বয়ংসম্পূর্ণতার হার অবশ্য খুব বেশি নয়। জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে ক্যালরির ভিত্তিতে দেশটির খাদ্যস্বয়ংসম্পূর্ণতার হার ছিল ৩৭ শতাংশ।
তবে ধান এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। জাপান দীর্ঘদিন ধরেই চালের প্রায় ৯৮ শতাংশ চাহিদা নিজস্ব উৎপাদনের মাধ্যমে মেটাচ্ছে। ফলে খাদ্যনিরাপত্তার আলোচনায় ধান দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফসল।
কিন্তু ধান উৎপাদন ধরে রাখাও সহজ হচ্ছে না। কৃষিশ্রমিকের সংখ্যা কমছে, কৃষকদের গড় বয়স বাড়ছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ধানের ফলন ও গুণমানের ওপর নতুন চাপ তৈরি হচ্ছে। তাই জাপানের লক্ষ্য এখন শুধু বেশি ধান উৎপাদন নয়; বরং পরিবর্তিত জলবায়ুতেও স্বাদ, গুণমান ও ফলন ধরে রাখতে সক্ষম ধান উৎপাদন।
পরিবেশবান্ধব কৃষির জন্য ‘মিদোরি কৌশল’
এই পরিবর্তনের পেছনে জাপানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত উদ্যোগ হলো ‘মিদোরি স্ট্র্যাটেজি ফর সাসটেইনেবল ফুড সিস্টেমস’। ২০২১ সালে জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয় এই কৌশল গ্রহণ করে।
২০৫০ সালের মধ্যে কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থাকে আরও টেকসই করার জন্য এতে একাধিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষি, বন ও মৎস্য খাতে কার্বন নিঃসরণ কমানো, ঝুঁকি বিবেচনায় রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার ৫০ শতাংশ কমানো, রাসায়নিক সারের ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমানো এবং মোট কৃষিজমির ২৫ শতাংশে জৈব কৃষি সম্প্রসারণের লক্ষ্য।
অর্থাৎ, জাপানের কৃষিনীতি এখন শুধু ‘কত বেশি উৎপাদন করা যাবে’- এই প্রশ্নে আটকে নেই। একইসাথে গুরুত্ব পাচ্ছে উৎপাদনে কত পানি, সার, কীটনাশক ও জ্বালানি লাগছে এবং এর ফলে পরিবেশের ওপর কতটা চাপ তৈরি হচ্ছে।
এই নীতির বাস্তবায়নে আইনগত ও আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি গ্রহণ, কৃষি যন্ত্রপাতি ও উৎপাদনব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃষকদের সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ইয়ামাগাতা: ধানের ভবিষ্যৎ নিয়ে গবেষণার বড় কেন্দ্র
জাপানের উত্তরের তোহোকু অঞ্চলের ইয়ামাগাতা প্রিফেকচার ধান উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। বিশেষ করে সোনাই সমভূমি দেশের গুরুত্বপূর্ণ ধান উৎপাদন অঞ্চলগুলোর একটি।
এখানকার কৃষির সাথে পাহাড়ি পানির উৎস, সমুদ্রঘেঁষা আবহাওয়া এবং স্থানীয় মাটির বৈশিষ্ট্যের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই ঐতিহ্যবাহী উৎপাদনব্যবস্থাও বদলাতে হচ্ছে।
ইয়ামাগাতা প্রিফেকচারের পানি-ধান কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট নতুন ধানের জাত উদ্ভাবন, স্বাদ ও গুণমান ধরে রাখার প্রযুক্তি, ফলন স্থিতিশীল করা এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির গবেষণায় ১৩০টির বেশি ধানের নতুন লাইন বা জাত তৈরি হয়েছে এবং এর মধ্যে ২২টি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের জন্য সুপারিশকৃত জাত হিসেবে বাজারে এসেছে।
এই গবেষণার অন্যতম সাফল্য ‘তসুয়াহিমে’ ও ‘ইউকিওয়াকামারু’র মতো ব্র্যান্ডেড চাল। ইয়ামাগাতার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রিফেকচারে ধানের আবাদে ‘হায়েনুকি’ ছিল সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত জাত, এরপর ছিল ‘তসুয়াহিমে’ ও ‘ইউকিওয়াকামারু’।
‘তসুয়াহিমে’ শুধু উৎপাদনের জন্য নয়, স্বাদের জন্যও বিশেষভাবে পরিচিত। ২০২৫ সালের উৎপাদনের চালের স্বাদ পরীক্ষায় ইয়ামাগাতার ‘তসুয়াহিমে’ টানা ১৬তমবারের মতো ‘Special A’ মান অর্জন করেছে। ‘ইউকিওয়াকামারু’ও টানা অষ্টমবার এই স্বীকৃতি পেয়েছে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- জাত উদ্ভাবনকে শুধু ফলনের সাথে যুক্ত করা হচ্ছে না। কোন জাতের স্বাদ কেমন, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কতটা, কখন ফসল কাটতে হবে এবং কৃষকের জন্য সেটি কতটা সহজে চাষযোগ্য- এসব বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। ইয়ামাগাতা কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন জাত তৈরির সময় স্বাদ, চাষের সহজতা, রোগবালাই প্রতিরোধ এবং পরিপক্বতার সময়কে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখা হয়।
জলবায়ু বদলালে বদলাতে হবে ধানের জাতও
ধানের জন্য সবচেয়ে বড় জলবায়ুগত হুমকিগুলোর একটি হলো অতিরিক্ত তাপমাত্রা। ধানের দানা পূর্ণ হওয়ার সময় অতিরিক্ত গরম হলে দানার গুণমান কমে যেতে পারে। ফলে একই জমিতে একই জাত চাষ করলেই ভবিষ্যতে আগের মতো ফলন ও মান পাওয়া যাবে- এমন নিশ্চয়তা নেই।
এই কারণেই ইয়ামাগাতায় উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীল জাতের উন্নয়ন এবং চাষপদ্ধতির পরিবর্তন নিয়ে কাজ চলছে।
তাপমাত্রা বাড়ার সাথে শুধু নতুন জাত তৈরি করলেই হবে না। কখন চারা রোপণ করা হবে, কীভাবে পানি ও মাটি ব্যবস্থাপনা করা হবে, কখন সার দেওয়া হবে এবং কখন ফসল কাটা হবে- এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। ইয়ামাগাতার গবেষণায় তাই জাত উদ্ভাবনের পাশাপাশি পুরো উৎপাদনব্যবস্থাকে জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানেও ‘তসুয়াহিমে’, ‘হায়েনুকি’ ও ‘ইউকিওয়াকামারু’র মতো জাতের উৎপাদন অব্যাহত থাকলেও জলবায়ুর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নতুন জাত ও নতুন ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।
ধানখেতে পানি কমিয়ে কমানো হচ্ছে মিথেন
জাপানের গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ধানখেতে পানি ব্যবস্থাপনা।
সাধারণভাবে ধানখেত দীর্ঘ সময় পানিতে ডুবে থাকলে মাটির অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়। তখন মাটিতে জৈব পদার্থের অবক্ষয় থেকে মিথেন উৎপন্ন হতে পারে। ধান চাষ তাই কৃষি উৎপাদনের পাশাপাশি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের সাথেও যুক্ত।
এ সমস্যা কমাতে ব্যবহৃত হচ্ছে অল্টারনেট ওয়েটিং অ্যান্ড ড্রাইং (AWD) পদ্ধতি। এতে ধানখেত সব সময় পানিতে ডুবিয়ে না রেখে নির্দিষ্ট সময় পর পানি সরিয়ে মাটিকে আংশিক শুকাতে দেওয়া হয়; পরে প্রয়োজন অনুযায়ী আবার পানি দেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (IRRI) বলছে, সঠিকভাবে প্রয়োগ করলে AWD পানির ব্যবহার কমাতে পারে এবং ফলন বজায় রেখেই গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
জাপানও এই ধরনের পানি ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। জাপানের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রচলিত ব্যবস্থার তুলনায় ধানখেতে মাঝামাঝি সময়ে পানি নিষ্কাশনের সময় আরও সাত দিন বাড়ানোর একটি পদ্ধতিতে গড়ে প্রায় ৩০ শতাংশ মিথেন নিঃসরণ কমানোর ফল পাওয়া গেছে, ফলন বা চালের প্রোটিনের ওপর উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব ছাড়াই।
এটি গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের জন্যও। কারণ বাংলাদেশে ধান উৎপাদনের বড় অংশই সেচনির্ভর এবং পানি ব্যবস্থাপনা কৃষকের উৎপাদন খরচের সাথে সরাসরি যুক্ত। তবে AWD সর্বত্র একইভাবে প্রয়োগ করা যাবে না; স্থানীয় সেচব্যবস্থা, জমির ধরন, পানি সরবরাহ ও কৃষকের ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে পদ্ধতিটি প্রয়োগ করতে হবে। বাংলাদেশে AWD বড় পরিসরে ছড়িয়ে দিতে সম্প্রসারণকর্মীর ঘাটতি একটি বাধা হতে পারে বলেও বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষণাগারে তৈরি হচ্ছে শুধু নতুন জাত নয়, নতুন কৃষিব্যবস্থাও
ইয়ামাগাতার গবেষণার বৈশিষ্ট্য এখানেই- তারা শুধু নতুন জাত উদ্ভাবন করছে না; একইসাথে চাষের পুরো প্রক্রিয়াকে বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
কোথায় কী পরিমাণ সার ব্যবহার করা হবে, কখন পানি সরাতে হবে, কীভাবে মাটির স্বাস্থ্য বজায় রাখা যাবে, কীভাবে কম শ্রমে বড় জমি পরিচালনা করা যাবে- এসব বিষয় নিয়েও গবেষণা চলছে।
এর পেছনে আরেকটি বাস্তবতা হলো কৃষিশ্রমিকের সংকট। ছোট ছোট জমির বদলে বড় আকারে কৃষিজমি ব্যবস্থাপনার প্রবণতা বাড়লে একই সময়ে অনেক জমিতে রোপণ, পরিচর্যা ও ফসল কাটার প্রয়োজন হয়। কিন্তু শ্রমিকের সংখ্যা কমতে থাকলে প্রচলিত পদ্ধতিতে এই কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
তাই ভবিষ্যতের ধানের জাত এমন হতে হবে, যা শুধু ভালো ফলন দেবে না; বরং কৃষকের কাজের সময়ও ভাগ করে দিতে পারবে। ভিন্ন সময়ে পরিপক্ব হওয়া জাত ব্যবহার করলে একই কৃষক বা কৃষি প্রতিষ্ঠান পর্যায়ক্রমে বড় জমিতে কাজ করতে পারবে। এতে শ্রম ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার আরও কার্যকর করা সম্ভব।
ডিএনএ দিয়েও খোঁজা হচ্ছে কাঙ্ক্ষিত ধানের বৈশিষ্ট্য
ধানের স্বাদ, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বা নির্দিষ্ট কোনো বৈশিষ্ট্য বাইরে থেকে গাছ দেখে সব সময় বোঝা যায় না। তাই আধুনিক ধান গবেষণায় জেনেটিক তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নতুন জাত তৈরির সময় বিভিন্ন জাতের মধ্যে সংকরায়ণ করা হয় এবং কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্পর্কিত জেনেটিক মার্কার শনাক্ত করে দ্রুত নির্বাচন করার চেষ্টা করা হয়। এর ফলে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় গবেষকদের জন্য নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যযুক্ত উদ্ভিদ বাছাই করা সহজ হয়।
তবে একটি নতুন জাত বাজারে পৌঁছানো দ্রুত কোনো প্রক্রিয়া নয়। দীর্ঘ সময় মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা, ফলন, স্বাদ, গুণমান, রোগ প্রতিরোধ ও বিভিন্ন পরিবেশে স্থিতিশীলতা যাচাই করতে হয়। ইয়ামাগাতার ‘তসুয়াহিমে’র উদাহরণই দেখায়, একটি উচ্চমানের ব্র্যান্ডেড জাত তৈরি করতে এক দশকেরও বেশি সময় লাগতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য কী শেখার আছে?
জাপানের কৃষি বাংলাদেশের মতো নয়। দেশটির জমির পরিমাণ, আবহাওয়া, কৃষির কাঠামো, কৃষকের সংখ্যা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা আলাদা। তাই জাপানের কোনো প্রযুক্তি সরাসরি বাংলাদেশে কপি করা বাস্তবসম্মত নয়।
তবে তাদের গবেষণার পদ্ধতি থেকে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা নিতে পারে।
প্রথমত, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দেখা দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে আগেই জলবায়ু সহনশীল জাত তৈরি করা জরুরি। বাংলাদেশের ধান গবেষণাতেও লবণাক্ততা, খরা, বন্যা ও অতিরিক্ত তাপমাত্রা সহনশীল জাতের পাশাপাশি স্বাদ ও ফলন ধরে রাখার বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেতে পারে।
দ্বিতীয়ত, ধান উৎপাদনকে শুধু ফলনের হিসাব দিয়ে দেখা যাবে না। পানি, সার, কীটনাশক, শ্রম ও জ্বালানি- সবকিছুর দক্ষ ব্যবহারকে উৎপাদনের অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
তৃতীয়ত, AWD-এর মতো পানি ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি বাংলাদেশে আরও বিস্তৃতভাবে পরীক্ষার সুযোগ রয়েছে। তবে স্থানীয় সেচব্যবস্থা ও কৃষকের বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে এর মডেল তৈরি করতে হবে। জাপানও এখন এ ধরনের প্রযুক্তিকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এশিয়ার অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, ভবিষ্যতের খাদ্যনিরাপত্তা শুধু বেশি জমিতে বেশি ফসল ফলানোর ওপর নির্ভর করবে না। প্রয়োজন হবে উন্নত জাত, নির্ভুল কৃষি প্রযুক্তি, দক্ষ পানি ব্যবস্থাপনা, কম পরিবেশগত ক্ষতি এবং গবেষণাভিত্তিক কৃষিনীতি- সবকিছুর সমন্বয়।
জাপানের ইয়ামাগাতা সেই পরিবর্তনের একটি বাস্তব উদাহরণ। সেখানে ধানের ভবিষ্যৎ নিয়ে গবেষণা চলছে মাঠে যেমন, তেমনি গবেষণাগারে, জিনগত বিশ্লেষণে এবং জলবায়ু নিয়ন্ত্রিত পরিবেশেও।
বাংলাদেশের মতো ধাননির্ভর দেশের জন্য তাই বার্তাটি স্পষ্ট- আগামী দিনের চাল শুধু কৃষকের মাঠে উৎপাদিত হবে না; তার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে গবেষণাগার, প্রযুক্তি ও জলবায়ু বাস্তবতার সমন্বয়ে।


