শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ঝুঁকি কমাতে বড় ধরনের পরিবর্তনে সম্মত হয়েছে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক মেটা। যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের সাথে করা সমঝোতার আওতায় প্রতিষ্ঠানটিকে সর্বোচ্চ ১৮ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত দিতে হতে পারে। পাশাপাশি কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সময়সীমা ও রাতের ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞাসহ বেশ কিছু নতুন নিয়ম চালু করতে হবে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ৫২ জন অ্যাটর্নি জেনারেলের সাথে সমঝোতায় পৌঁছায় মেটা। প্রস্তাবিত চুক্তিটি কার্যকর হতে আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন।
সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে ডিফল্টভাবে প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা ব্যবহারের সীমা রাখা হবে। পাশাপাশি রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত অ্যাপ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। স্কুল চলাকালে নির্দিষ্ট সময়ে বিজ্ঞপ্তিও বন্ধ রাখা হবে।
কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের অভিজ্ঞতাতেও পরিবর্তন আসবে। পোস্টে লাইক সংখ্যা দেখানোর মতো কিছু ফিচার ডিফল্টভাবে সীমিত করা হবে। অভিভাবকদের জন্য সন্তানদের অনলাইন কার্যক্রম ও ব্যবহারের সময় নিয়ন্ত্রণে আরও কিছু সুবিধা দেওয়ার কথাও রয়েছে।
তবে সমঝোতার আর্থিক বিষয়টি আরও জটিল। মেটার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ১৮ বিলিয়ন ডলারের অর্থ পরিশোধের কথা বলা হলেও এর একটি অংশ নির্ভর করছে টিকটক ও ইউটিউব একই ধরনের শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কি না, তার ওপর। ১০ বছর ধরে বিভিন্ন ধাপে অর্থ পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে।
শিশুদের বয়স শনাক্ত করাও নতুন ব্যবস্থার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের জন্য নির্ধারিত নিয়ম কার্যকর করতে মেটাকে আরও শক্তিশালী বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালু করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ও তৃতীয় পক্ষের যাচাই পদ্ধতি ব্যবহারের কথা রয়েছে।
তবে বয়স যাচাইয়ের প্রযুক্তি নিয়ে গোপনীয়তার প্রশ্নও উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, শিশুদের বয়স নিশ্চিত করতে মুখমণ্ডল, পরিচয়পত্র বা অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহার করা হলে সেগুলো সুরক্ষিত রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। ফলে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মেটা অবশ্য সমঝোতার মাধ্যমে কোনো ধরনের আইন ভঙ্গ বা দায় স্বীকার করেনি। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিশু-কিশোরদের নিরাপদ রাখতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিল্পজুড়ে একই ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন। এ কারণে মেটা টিকটক ও ইউটিউবকেও অনুরূপ বিধিনিষেধ চালুর আহ্বান জানিয়েছে।
এই সমঝোতা এমন সময়ে হলো, যখন শিশু ও কিশোরদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে উদ্বেগ বাড়ছে। ফলে মেটার এই নতুন নিয়ম শুধু প্রতিষ্ঠানটির জন্য নয়, ভবিষ্যতে অন্যান্য বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।



