...|...|...

রাজনীতি

বিএনপির মনোনয়ন চেয়ে নেতাদের বাসায় গিয়েছিলেন আসিফ, দাবি রাশেদের

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১০:২৫
Shares
বিএনপির মনোনয়ন চেয়ে নেতাদের বাসায় গিয়েছিলেন আসিফ, দাবি রাশেদের

আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং রাশেদ খাঁন : সংগৃহীত

বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিতে দলটির নেতাদের বাসায় গিয়েছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া-এমন দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। তার দাবি, বিএনপি আগ্রহ না দেখানোয় শেষ পর্যন্ত এনসিপিতে যোগ দেন আসিফ। তবে রাশেদের এ বক্তব্যকে গুরুত্ব দিতে রাজি নন আসিফ মাহমুদ।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব দাবি করেন রাশেদ খাঁন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আসিফ মাহমুদ বলেন, রাশেদের বক্তব্য মন্তব্য করার মতো ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বলে তিনি মনে করেন না।

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘পদত্যাগ করার ঠিক আগের দিন রাতে আসিফ মাহমুদ বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় গিয়ে বসে ছিলেন বিএনপিতে যোগদান করে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য। মাহফুজ আলমও ধানের শীষে নির্বাচন করতে আগ্রহী ছিলেন। যে কারণে দুজন একসাথে বিএনপিতে যোগদান ও নির্বাচনের কনফার্মেশন (নিশ্চয়তা) পাওয়ার জন্য বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (বর্তমানে রাষ্ট্রপতি) এবং বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বাসায় পর্যায়ক্রমে গিয়েছিলেন। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো উপদেষ্টা বিএনপির প্রতীকে নির্বাচন করুক, এটা বিএনপি চায়নি। অর্থাৎ বিএনপি আসিফ মাহমুদের প্রতি আগ্রহ না দেখানোর পর তিনি বাধ্য হয়ে এনসিপিতে যোগদান করেছেন। মাহফুজ আলম অবশ্য বিএনপিতে সুযোগ না পেয়ে নৈতিকতা ধরে রেখেছেন। তার এই সততাকে সাধুবাদ জানাই।’

আসিফ মাহমুদকে নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাশেদ খাঁন আরও লেখেন, গণ-অভ্যুত্থানে সাহসী ভূমিকার কারণে নাহিদ ইসলামের পরই এনসিপিতে আসিফ মাহমুদের অবস্থান থাকার কথা ছিল। কিন্তু অতীত বিতর্ক ও এনসিপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে দোদুল্যমান অবস্থানের কারণে বর্তমানে তিনি দলটির ‘সুপার সিক্সের’ সর্বশেষ নেতা। তার ভাষ্য, অতীত কর্মকাণ্ডের কারণে আসিফ মাহমুদ এনসিপিতে ব্যাপক কোণঠাসা।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা নাহিদ ইসলাম, মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নাহিদ সাত মাসের মাথায় সরকার থেকে পদত্যাগ করে এনসিপির আহ্বায়কের দায়িত্ব নেন। অন্যদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত ১০ ডিসেম্বর মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সরকার থেকে পদত্যাগ করেন।

পরে ২৯ ডিসেম্বর এনসিপিতে যোগ দিয়ে দলটির মুখপাত্র হন আসিফ মাহমুদ। বর্তমানে তিনি দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব। তবে জামায়াতে ইসলামীর সাথে এনসিপির জোট গঠনের বিষয়ে একমত হতে না পেরে মাহফুজ আলম দলটিতে যোগ দেননি। তিনি বর্তমানে ‘অল্টারনেটিভস’ নামের একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের সংগঠক।

রাশেদ খাঁনের অভিযোগের বিষয়ে প্রথম আলোকে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘মিথ্যা কথা বলার জন্যই তাকে (রাশেদ) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মন্তব্য করার মতো গুরুত্বপূর্ণ মনে করি না।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাহফুজ আলমের সাথেও যোগাযোগ করা হয়। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো প্রশ্ন দেখলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।

‘বিরিয়ানির ভাগ চাইলেও পাওয়ার সম্ভাবনা নেই’

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন আরও দাবি করেন, বেশি আসনে সমঝোতার জন্য এনসিপির শীর্ষস্থানীয় প্রায় এক ডজন নেতা সালাহউদ্দিন আহমদের বাসায় গিয়ে বসে থাকতেন। তার ভাষ্য, বিএনপি এনসিপিকে চারটির বেশি আসন ছাড়তে রাজি হয়নি। এ কারণে বেশি আসন ও নির্বাচনী খরচের আশায় দলটি জামায়াতের জোটে গেছে। তিনি এনসিপির নতুন রাজনীতিকে ‘সুবিধাবাদী জিন্দাবাদের রাজনীতি’ বলেও মন্তব্য করেন।

এনসিপির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে প্রচার চালানোর বিষয়টিকেও রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন রাশেদ খাঁন। তার মতে, আলাদা কোনো সুবিধা আদায় কিংবা জামায়াতের পরামর্শে বিএনপিকে চাপে রাখতেই এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘কিন্তু তাদের এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ ব্যর্থ কর্মসূচি। বিএনপি সরকারের মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করেও তাঁর কিছু করার সক্ষমতা রাখে না এনসিপি। কারণ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো সুযোগে নেতা বনে যাননি। দীর্ঘ সংগ্রাম, মেধা ও যোগ্যতার কারণেই তাঁর আজকের এই পজিশন (অবস্থান)।’

পোস্টে জামায়াত ও এনসিপির সংসদ সদস্যদের যোগ্যতা নিয়েও মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। তিনি লেখেন, জামায়াত-এনসিপির ৯০ জন সংসদ সদস্যের মেধা ও যোগ্যতা এক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের সমান নয়। তার মতে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলে বিএনপিকে চাপে রেখে রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করাই তাদের উদ্দেশ্য।

রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘তারা মনে করে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি করে বিএনপিকে চাপে রাখতে পারলে বিরিয়ানির ভাগ আদায় করা যাবে! কিন্তু বিএনপি বিরিয়ানি ভাগ-বাঁটোয়ারার রাজনীতি করে না, বিএনপি রাষ্ট্র পুনর্গঠনের রাজনীতি করে। সুতরাং বিএনপির কাছ থেকে জামায়াত-এনসিপি বিরিয়ানির ভাগ চাইলেও পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।’