মালয়েশিয়া যুবদলের নবগঠিত কমিটি নিয়ে বিতর্ক ও বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় যুবদল।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) যুবদলের কেন্দ্রীয় দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালয়েশিয়া যুবদলের সাংগঠনিক অবস্থার প্রকৃত চিত্র পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দিতে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম মুরাদকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন যৌথভাবে এ নির্দেশ দেন।
নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মালয়েশিয়া যুবদলের অভ্যন্তরীণ অবস্থা ও সার্বিক সাংগঠনিক পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দিতে হবে।
এদিকে তদন্তের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বর্তমান কমিটির কয়েকজন নেতা ও পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। তাদের আশা, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে এবং ত্যাগী নেতাকর্মীরা যথাযথ মূল্যায়ন পাবেন।
উল্লেখ্য, নবগঠিত ১০১ সদস্যের কমিটিতে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন, পক্ষপাতিত্ব এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে গত ১১ অক্টোবর কুয়ালালামপুরে সংবাদ সম্মেলন করেন সংগঠনটির শতাধিক নেতাকর্মী। সে সময় তারা বর্তমান কমিটি বাতিল করে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতাকর্মীদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান।
অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা অনেক নেতাকর্মীকে নতুন কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়নি। তাদের ভাষ্য, প্রবাসে থেকেও আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক নেতাকর্মী পুলিশি হয়রানি ও কারাভোগসহ নানা প্রতিকূলতার শিকার হয়েছেন। দীর্ঘদিন সংগঠনের জন্য কাজ করা দুই শতাধিক নেতাকর্মীকে উপেক্ষা করে কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।
এ ছাড়া কমিটি গঠনে সাংগঠনিক যোগ্যতা ও আন্দোলনে অবদানের পরিবর্তে ব্যক্তিগত আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কমিটিতে দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় ব্যক্তি এবং জামায়াত-শিবির ও আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন বিরোধিতাকারীরা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। কেন্দ্রীয় তদন্ত প্রতিবেদনে মালয়েশিয়া যুবদলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি ও কমিটি গঠন নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।


