দীর্ঘদিন ধরে অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থের অপেক্ষায় থাকা বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য অবশেষে এলো সুখবর। প্রাথমিকভাবে ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৯৬ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
আগামী শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ অর্থ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, নির্বাচিত ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৯৬ জনের মধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ড থেকে অর্থ পাবেন ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী। আর বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে কল্যাণ সুবিধার অর্থ পাবেন ৫৩ হাজার ৪৭৭ জন আবেদনকারী।
এর আগে প্রাথমিকভাবে ১ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে আবেদনকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সুবিধাভোগীর সংখ্যাও বেড়ে ১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি হয়েছে।
গত ৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ১ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়।
বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আবেদনকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার মোট সুবিধাভোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। অবসর সুবিধার ক্ষেত্রে নির্বাচিত শিক্ষক-কর্মচারীরা গড়ে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা এবং কল্যাণ সুবিধার ক্ষেত্রে গড়ে প্রায় ২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা পাবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ মূলত শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে আদায় করা চাঁদা, ব্যাংকে জমা থাকা অর্থের সুদ এবং বিভিন্ন সময়ে সরকারের দেওয়া থোক বরাদ্দ ও বন্ড সুবিধার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়।
অবসর সুবিধার জন্য চাকরিকালীন শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের ৬ শতাংশ হারে প্রতি মাসে চাঁদা কেটে রাখা হতো। একইভাবে কল্যাণ সুবিধার জন্য নেওয়া হতো আরও ৪ শতাংশ। ২০১৯ সাল পর্যন্ত এ হারে চাঁদা নেওয়া হয়েছে। এর আগে অবসর সুবিধার জন্য মূল বেতনের ৪ শতাংশ এবং কল্যাণ সুবিধার জন্য ২ শতাংশ হারে চাঁদা নেওয়া হতো।
এ ছাড়া বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বছরে ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৭০ টাকা অবসর সুবিধা তহবিলে এবং ৩০ টাকা কল্যাণ সুবিধা তহবিলে জমা হয়। পাশাপাশি সরকারের বরাদ্দ ও তহবিলে জমা থাকা অর্থের সুদ থেকেও প্রয়োজনীয় অর্থের একটি অংশ সমন্বয় করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, শিক্ষক-কর্মচারীদের পদ, বেতন ও চাকরিকালের ওপর অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থের পরিমাণ নির্ভর করে।
সর্বোচ্চ গ্রেডে থাকা একজন অধ্যক্ষ অবসর সুবিধা হিসেবে মোট প্রায় ৩৮ লাখ টাকা পর্যন্ত পেয়ে থাকেন। এর মধ্যে চাকরিকালীন সময়ে তার কাছ থেকে চাঁদা হিসেবে জমা হয় প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা। একজন অধ্যক্ষ কল্যাণ সুবিধা হিসেবে মোট ২০ লাখ টাকার বেশি পেয়ে থাকেন।
অন্যদিকে, মাধ্যমিক পর্যায়ের একজন সহকারী শিক্ষক অবসর সুবিধা হিসেবে প্রায় ১৭ লাখ টাকা পান। এর মধ্যে চাকরিকালীন সময়ে তার কাছ থেকে চাঁদা হিসেবে নেওয়া হয় প্রায় ২ লাখ টাকা। এ ছাড়া একজন সহকারী শিক্ষক কল্যাণ সুবিধা হিসেবে মোট প্রায় পৌনে ৭ লাখ টাকা পেয়ে থাকেন। এর মধ্যে তার কাছ থেকে চাঁদা হিসেবে জমা হয় প্রায় ৭৭ হাজার টাকা।
কর্মচারীদের ক্ষেত্রে পদ ও বেতন কাঠামো অনুযায়ী সুবিধার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে দুই প্রতিষ্ঠানের তহবিলে যে অর্থ জমা রয়েছে, মূলত তার ওপর ভিত্তি করেই এবার শিক্ষক-কর্মচারীদের আংশিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বিপুলসংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তির জন্য যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন, তার তুলনায় বর্তমানে তহবিলের অর্থ সীমিত। ফলে একসাথে সব আবেদনকারীর সম্পূর্ণ প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। পর্যায়ক্রমে তহবিলে অর্থের সংস্থান অনুযায়ী অবসর ও কল্যাণ সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
১৫ আগস্টের এই কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থের অপেক্ষায় থাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য তাই বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থ বিতরণ শুরু হলে নির্বাচিত ১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারীর একটি বড় অংশের অপেক্ষার অবসান হবে।


