চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রায় ১ হাজার ৮৭ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সেপ্টেম্বর মাসের বেতন ও উৎসব ভাতা স্থগিতের নির্দেশনা দিয়েছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপককে এক লিখিত নির্দেশনার মাধ্যমে বেতন ছাড় না করার নির্দেশ দেন উপাচার্য।
চুয়েট আইন ২০০৩-এর ১৩(৭) ধারার উল্লেখ করে উপাচার্য চিঠিতে জানান, তার সুস্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া যেকোনো আর্থিক লেনদেন বেআইনি এবং অনুমোদন ব্যতীত বিল ছাড় করা হলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষও যৌথভাবে দায়ী থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৩৬৭ জন শিক্ষক, ২০৮ জন কর্মকর্তা ও ৫১২ জন কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষার্থীদের চলমান উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষক-কর্মচারীরা সংহতি প্রকাশ করে কর্মবিরতি পালনের জেরেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক-কর্মচারীরা আসন্ন দুর্গাপূজার আগে হঠাৎ বেতন-বোনাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
চুয়েট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রকৌশলী সৈয়দ মোহাম্মদ ইকরাম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়মে হিসাব নিয়ন্ত্রক ও উপহিসাব নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষরেই ব্যাংক থেকে বেতন ও বোনাস পরিশোধ করা হয়, যেখানে উপাচার্যের আলাদা স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা থাকে না। তিনি এই পদক্ষেপকে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের দমানোর অপচেষ্টা বলে মন্তব্য করেন। সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখা জানিয়েছে, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে এবং আইনি পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে কুয়েটের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগ বাতিলের দাবিতে টানা ১৫ দিন ধরে চুয়েটে ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক সব কার্যক্রম স্থবির হয়ে রয়েছে।


