...|...|...

সারাদেশ

‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে জুলাই শহীদের চাচাকে থানায় নিলেন বিএনপি নেতা

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১:৪৬
Shares
‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে জুলাই শহীদের চাচাকে থানায় নিলেন বিএনপি নেতা

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় নির্বাচনী বিলবোর্ড স্থাপনকে কেন্দ্র করে জুলাই শহীদ মিরাজুল ইসলাম অর্ণবের বাবার সাথে হাতাহাতির ঘটনার জেরে অর্ণবের চাচা আব্দুস সালামকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। পুলিশ তদন্ত করে তাকে ছেড়ে দিলে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেনকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে ওই নেতার বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত নেতার নাম মতিউর রহমান সাগর। তিনি নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঘড়িষার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ওসিকে হুমকি দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে উপজেলার নোয়াদ্দা বাংলা বাজার এলাকায় নির্বাচনী বিলবোর্ড লাগাতে যান মতিউর রহমান সাগর। এ সময় জমির মালিক ও জুলাই শহীদ মিরাজুল ইসলাম অর্ণবের বাবা আবু তালেব এতে বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান শহীদ অর্ণবের চাচা আব্দুস সালাম। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় সাগর ও তার লোকজন তাকে মারধর করেন। পরে তাকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে জোরপূর্বক থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সাগরের নির্বাচনী ব্যানার ছিঁড়ে ও পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ এনে আব্দুস সালামকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়।

তবে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালে ক্ষুব্ধ হন বিএনপি নেতা সাগর। একপর্যায়ে আগের একটি বিস্ফোরক মামলায় আব্দুস সালামকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে দেখানোর জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে।

পুলিশ আব্দুস সালামকে ছেড়ে দিলে সাগর নড়িয়া থানার ওসি আনোয়ার হোসেনকে উদ্দেশ করে হুমকি দেন বলে অভিযোগ। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘বাহার (আগের ওসি) গেছে যে পথে, আপনিও যাবেন সে পথে।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে এর আগেও সাংবাদিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীরা থানায় অন্তত ছয়টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে আব্দুস সালাম বলেন, নিজেদের জায়গায় সাইনবোর্ড টাঙানোকে কেন্দ্র করে তার ভাইয়ের সাথে সাগরদের বাকবিতণ্ডা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং সেখান থেকে চলে আসেন। কিছুক্ষণ পর তার বাড়ির সামনে ৮ থেকে ১০ জন লোক হামলা চালিয়ে তাকে যুবলীগের ট্যাগ দিয়ে থানায় আটক করার চেষ্টা করে। তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিচার দাবি করেন।

ঘড়িষার ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল আমিন বলেন, তার ভাগিনা জুলাই শহীদ। অথচ মতিউর রহমান সাগর তাকে ছাত্রলীগের ট্যাগ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তার দাবি, সাগরের এমন আচরণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তিনি বাংলাবাজার এলাকা থেকে সাগরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মতিউর রহমান সাগরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে অন্য এক গণমাধ্যমকর্মীকে তিনি জানিয়েছেন, ওসির সাথে তার এ ধরনের কোনো কথা হয়নি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) মহিউদ্দিন মিরাজ বলেন, তাদের কাছে আসা অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। হাতাহাতির ঘটনাটি আব্দুস সালামের ভাইয়ের সাথে হওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ওসিকে হুমকির বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করতে গিয়ে এমন হয়রানির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা যেভাবে নির্দেশনা দেবেন, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা বিএনপির সভাপতি ও শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান কিরণ বলেন, এর আগেও মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে প্রশাসন ও কর্মকর্তাদের সাথে অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে। সে সময় তিনি দলের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন এবং বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানানো হয়েছিল। একজন কর্মীকে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কারের এখতিয়ার তাদের নেই। তবে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের কাছে পাঠানো হবে। আগামী দুই দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে আলোচনা করে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।