যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক আগ্রাসন তেহরানকে দমনের কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেনি; উল্টো এই সংঘাত আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইরানের অবস্থানকে আগের চেয়ে অনেক বেশি সুদৃঢ় ও অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে। দেশটির প্রভাবশালী সংসদ সদস্য মাহমুদ নবভিয়ান এক জোরালো বিবৃতিতে এই দাবি করেছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত ধারাবাহিক বেশ কিছু পোস্টে মাহমুদ নবভিয়ান মার্কিন ও ইসরায়েলি অক্ষের মূল উদ্দেশ্যগুলো তুলে ধরে জানান, তাদের গোপন ও প্রকাশ্য লক্ষ্য ছিল প্রাচীন ইরানি সভ্যতাকে ধ্বংস করা, দেশকে খণ্ড-বিখণ্ড করা, বর্তমান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসনব্যবস্থা উৎখাত করা এবং তেহরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি চিরতরে মুছে ফেলা।
তবে নবভিয়ানের জোরালো দাবি অনুযায়ী, তেহরানের কঠোর প্রতিরোধ এবং পাল্টা সামরিক কৌশলের মুখে সেই লক্ষ্যগুলো ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। এর ফলশ্রুতিতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু সামরিক ঘাঁটি বন্ধ কিংবা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা ও চরম দুর্বল হয়ে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ধমনী ও কৌশলগত পয়েন্ট হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের একচ্ছত্র ও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকাকে তেহরানের একটি বিরাট ভূরাজনৈতিক বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন এই ইরানি আইনপ্রণেতা। তার দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান এই সর্বাত্মক যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ইরান অবশেষে একটি প্রকৃত ‘বিশ্ব পরাশক্তি’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
একই সাথে চলমান এই যুদ্ধের চূড়ান্ত ফলাফল ও জয়-পরাজয় নিয়ে মনগড়া বা ভিন্ন ধরনের কোনো বিভ্রান্তিকর বয়ান তৈরির অপচেষ্টা না করার জন্য দেশবাসীর প্রতি সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন নবভিয়ান। তার কড়া অভিযোগ, দেশের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা কিছু ভীতু ও তথাকথিত ‘পশ্চিমাপন্থি’ লবি বা কণ্ঠস্বর ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধের প্রকৃত সত্য ও জয়ের চিত্রকে বিকৃত করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে।


