...|...|...

বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম সিনেট প্রার্থীকে নিয়ে ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১২:৫৫
Shares
যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম সিনেট প্রার্থীকে নিয়ে ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদকে লক্ষ্য করে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, এল-সায়েদ নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রে বড়দিন পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যেতে পারে। একই সাথে ওই প্রার্থীকে ‘জিহাদি’ আখ্যা দিয়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন ট্রাম্প। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি বলে জানিয়েছে আলজাজিরা।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) মিশিগানের পোর্ট হুরনে রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্সের সমর্থনে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে এসব বক্তব্য দেন ট্রাম্প। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

প্রায় দুই ঘণ্টার বক্তব্যে ট্রাম্পের আলোচনার বড় অংশজুড়ে ছিল মিশিগানের সিনেট নির্বাচন। অঙ্গরাজ্যটির সিনেট আসনটি রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট- উভয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

সমাবেশে আবদুল এল-সায়েদকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি হবেন একমাত্র সিনেটর, যাকে সিনেটে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আগে মেটাল ডিটেক্টরের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।’

এল-সায়েদের মুসলিম পরিচয়কে কেন্দ্র করে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি এখানে এসেছি, যাতে একজন জিহাদি মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর হতে না পারেন।’

আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা এল-সায়েদ সংবিধান সমুন্নত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি কখনো মুসলিম ব্রাদারহুড বা কোনো বিদেশি সংগঠনের সদস্য ছিলেন- এমন কোনো প্রমাণ নেই।

ট্রাম্প অভিযোগ করেন, এল-সায়েদ যুক্তরাষ্ট্রে শরিয়াহ আইন চালু করতে চান। তিনি বলেন, ‘আবদুল এবং ডেমোক্র্যাটরা জিতলে তারা বাধার সব দরজা খুলে দেবে এবং দলে দলে জিহাদিদের আমাদের দেশে আমন্ত্রণ জানাবে। এতে সহিংসতা ও সন্ত্রাসের এমন এক দুঃস্বপ্ন তৈরি হবে যে আপনি বড়দিনও উদযাপন করতে পারবেন না।’

এল-সায়েদ অবশ্য তার বিরুদ্ধে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্যকে ‘মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর চেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানোর মতো অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোতে মনোযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় থেকেই ট্রাম্প রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনে মুসলিমবিরোধী বক্তব্য ব্যবহার করে আসছেন।

২০১৫ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। পরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০১৭ সালে কয়েকটি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নাগরিকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। এ পদক্ষেপটি ‘মুসলিম ব্যান’ নামে পরিচিতি পায়।

মিশিগানের সমাবেশেও ট্রাম্প মুসলিম অভিবাসন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং এল-সায়েদকে মুসলিম ব্রাদারহুডের সাথে যুক্ত করার চেষ্টা করেন।

সমাবেশে ট্রাম্পের সাথে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্স। এর আগে তিনি ইরান যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং কানাডার সাথে বাণিজ্যযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন।

ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমতে থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী আসনের কয়েকজন রিপাবলিকান প্রার্থী তার কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখলেও রজার্স সমাবেশে অংশ নিয়ে তার প্রতি সমর্থন জানান।

রজার্সও এল-সায়েদের বিরুদ্ধে মুসলিম ব্রাদারহুডের সাথে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ তোলেন। তিনি আরও দাবি করেন, এল-সায়েদ ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার (ডিএসএ) সাথে সংশ্লিষ্ট এবং মুসলিম ব্রাদারহুড, হামাস ও হিজবুল্লাহকে সমর্থনকারী সংগঠনগুলোর কাছ থেকে অর্থ নিচ্ছেন। তবে এসব দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এল-সায়েদ ডিএসএর সদস্যও নন।