...|...|...

বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তেলের নিয়ন্ত্রণ, তবুও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণের দাবি ভেনেজুয়েলার

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৫:১৩ | আপডেট: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:৫৮
Shares
যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তেলের নিয়ন্ত্রণ, তবুও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণের দাবি ভেনেজুয়েলার

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তেল বিক্রির চুক্তি হলেও ভেনেজুয়েলা তার সার্বভৌমত্ব বজায় রাখছে বলে দাবি করেছেন দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। এই চুক্তির আওতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রিত প্রতিটি ব্যারেল তেল থেকে ১৯ ডলার কারাকাসের কোষাগারে জমা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (২৯ আগস্ট) এক টেলিভিশন ভাষণে রদ্রিগেজ বলেন, ওয়াশিংটনের সাথে হওয়া এই ‘ঐতিহাসিক’ চুক্তির অধীনে ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল হস্তান্তরের মেয়াদ হবে ২৫ বছর। এটি ভেনেজুয়েলাকে তার নিজস্ব তেল শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ দেবে এবং একই সাথে সম্পদের ‘মালিকানা ও সার্বভৌমত্ব’ সুরক্ষিত রাখবে।

তিনি জানান, এই প্রকল্পের আওতায় প্রতিদিন ১৫ লাখ ব্যারেল প্রাথমিক উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্র উন্নয়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

দেশের জ্বালানি খাতের বৃহত্তর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এই বিস্তৃত পরিকল্পনায় আটটি গ্রিনফিল্ড তেল ব্লকের উন্নয়নও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

রদ্রিগেজ বলেন, এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী উৎপাদিত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রিত প্রতিটি ব্যারেল তেল থেকে ১৯ ডলার কারাকাসে আসবে। তেলের দামের ওপর ভিত্তি করে এই ব্যবস্থা থেকে ভেনেজুয়েলার বার্ষিক ২০ হাজার ৯০০ কোটি (২০৯ বিলিয়ন) ডলার পর্যন্ত আয় হতে পারে।

তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলা তার প্রাকৃতিক সম্পদের মালিকানা বজায় রাখবে এবং নিষেধাজ্ঞার কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত একটি কৌশলগত শিল্পের পুনরুদ্ধারকে সমর্থন করার জন্য মূলধন, প্রযুক্তি ও কর্মক্ষম দক্ষতাকে কাজে লাগাবে।

এর আগে, গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল রিজার্ভের আংশিক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এই চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন সংস্থাসহ বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানি ভেনেজুয়েলার বেহাল জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ করবে।

রয়টার্স বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলান কর্মকর্তারা আগামী সপ্তাহে এমন কিছু চুক্তি স্বাক্ষর করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা মার্কিন প্রতিষ্ঠান শেভরনসহ কয়েকটি সংস্থাকে নতুন তেল অনুসন্ধান ও উৎপাদনের অধিকার প্রদান করবে।

উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে মার্কিন বিশেষ বাহিনী তৎকালীন ভেনেজুয়েলান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করে এবং দেশটির ক্ষমতা তার উপরাষ্ট্রপতি রদ্রিগেজের হাতে তুলে দেওয়ার পর থেকেই ওয়াশিংটনের দাবি অনুযায়ী কাজ করার জন্য চাপের মুখে রয়েছে কারাকাস।