ইরানের হোরমোজগান প্রদেশে একটি বিয়েবাড়িতে চালানো সাম্প্রতিক মার্কিন হামলাকে একটি ‘স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘে নিযুক্ত দেশটির উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি গোলাম হোসেন দারজি জাতিসংঘ মহাসচিব ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। খবর মেহের নিউজ এজেন্সির।
পাঠানো ওই চিঠিতে দারজি জানান, গত ১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি শহর লক্ষ্য করে নতুন দফার সামরিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে হোরমোজগানের সিরিক উপজেলার কুহেস্তাক শহরের একটি আবাসিক বাড়িতে যখন বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল, তখন সেখানে সুনির্দিষ্টভাবে হামলা চালানো হয়। এই পৈশাচিক হামলায় চার বছর বয়সী এক শিশুসহ চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৭০ জনের বেশি আহত হন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এই ধরণের হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন এবং পরিস্থিতির বিচারে এটি একটি জঘন্য যুদ্ধাপরাধ। জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার জন্মগত অধিকার প্রয়োগ করে এই আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দেওয়ার কথা জানিয়েছে তেহরান।
এছাড়া চিঠিতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের দীর্ঘ চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, এই সংঘাতের শুরুতেই হোরমোজগানের মিনাব এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন হামলায় ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী ১৬৮ জনের বেশি ছাত্রী এবং শিক্ষক-কর্মচারী নিহত হন। হাসপাতাল, স্কুল, সেতু ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো এসব হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল।
জাতিসংঘের সনদ ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে চালানো এসব অপরাধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ণ দায় নিতে হবে এবং এর ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলে দাবি জানিয়েছে ইরান। একইসাথে নিরাপত্তা পরিষদকে এই হামলাগুলোর নিন্দা জানিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


