...|...|...

বিশ্ব

আল জাজিরার সাক্ষাৎকারে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান

যুক্তরাষ্ট্রকে আগে আমাদের শর্ত মানতে হবে, এর পরেই আলোচনা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:৪৪ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:১৪
Shares
যুক্তরাষ্ট্রকে আগে আমাদের শর্ত মানতে হবে, এর পরেই আলোচনা

ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজায়ি। ছবি: সংগৃহীত

আল জাজিরাকে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজায়ি তেহরানের বর্তমান অবস্থান ও শর্তগুলো তুলে ধরেছেন। 

সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্মানিত কাতার সরকার এবং সম্মানিত পাকিস্তানি সরকার বর্তমানে আমাদের সাথে ক্রমাগত পরামর্শ চালিয়ে যাচ্ছে। যোগাযোগ ও বৈঠক চলছে। আমরা তাদের আমাদের শর্তগুলো সম্পর্কে জানিয়েছি—এবং আমেরিকানরা নিজেরাও আমাদের শর্ত সম্পর্কে ভালোভাবেই অবগত রয়েছে... আর আমরা আমেরিকানদের পক্ষ থেকে সেগুলোতে সম্মতি ও তা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছি।

ইরানের পক্ষ থেকে আরোপিত শর্ত সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে আমাদের অবরুদ্ধ বা ফ্রোজেন সম্পদ মুক্ত করা। দ্বিতীয়ত, তাদের অবশ্যই সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণা দিতে হবে—আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকতে হবে, আমাদের বিপ্লবের বিরোধীদের সহযোগিতা বন্ধ করতে হবে, আমাদের ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে এবং নৌ-অবরোধ তুলে নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে সবার আগে আমাদের শর্তগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে, আর কেবল এর পরেই আলোচনা হতে পারে।

ইরানের পারমাণবিক মতবাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা আমাদের শহীদ ইমাম (আয়াতুল্লাহ খোমেনি)-এর ফতোয়ার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছি এবং আজ পর্যন্ত আমাদের অবস্থান পরিবর্তিত হয়নি, তবে ভবিষ্যতে কী ঘটবে তা আমরা জানি না... আমরা এখন বিবেচনা করে দেখছি যে আমরা পারমাণবিক অস্ত্র চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেব কি না। এটি আমেরিকার আচরণের ওপর নির্ভর করে।

হুথি ও সৌদি আরব সংঘাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা আন্তরিকভাবে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যকার যুদ্ধ শেষ করতে চাই... যদি তারাও আমাদের সহায়তা চায়, তবে ইয়েমেন ও সৌদি আরবের মধ্যে শান্তি অর্জনে সহায়তা করার জন্য আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছি।

সম্ভাব্য মার্কিন হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা একটি চূড়ান্ত যুদ্ধ লড়াই করার জন্য নিজেদের পুরোপুরি প্রস্তুত করেছি। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুর্বল দিকগুলো এখন আমাদের কাছে পুরোপুরি স্পষ্ট ও জানা... আমরা সম্প্রতি একটি যুদ্ধজাহাজ-বিরোধী মিসাইল পরীক্ষা করেছি, অর্থাৎ আমরা এমন একটি মিসাইল নিক্ষেপ করেছি যা সেখানকার বিমানবাহী রণতরীর কাছাকাছি গিয়ে বিস্ফোরিত হয় এবং ৮০টি বিস্ফোরক ওয়ারহেডে বিভক্ত হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, আমরা নিজেদের রক্ষায় অত্যন্ত সিরিয়াস। এবার যদি যুদ্ধ শুরু হয়, তবে যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো থেকে বিমানগুলো উড্ডয়ন করে, আমরা আরও কঠোরভাবে সেই সমস্ত মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে আঘাত হানব।