লিওনেল মেসির বিদায়ী মুহূর্তে আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না এনজো ফার্নান্দেজ। বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয়ের পর মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে মেসি যখন জাতীয় দলের হয়ে শেষ বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন তার ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদছিলেন এনজো। প্রিয় সতীর্থ ও আইডলের বিদায় যেন পুরনো অনেক স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছিল এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারের মনে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় ভোরে মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের পর মেসি যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন তার পেছনে দাঁড়িয়ে কাঁদতে দেখা যায় এনজোকে। রোজারিওর এই বিশ্বজয়ী মহাতারকার প্রতি এনজোর ভালোবাসা ও ভক্তির কথা অনেক আগে থেকেই জানা। ২০১৬ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে মেসি যখন জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন, তখনই তাকে সিদ্ধান্ত বদলের অনুরোধ জানিয়ে আবেগঘন একটি চিঠি লিখেছিলেন এনজো।
চিঠিতে এনজো লিখেছিলেন, ‘আপনি যখন বলেছিলেন যে চলে যাচ্ছেন, আমার বড্ড কষ্ট হয়েছিল। তখন আমি ছোট ছিলাম, আর মনে মনে হিসেব কষছিলাম আপনার বয়স আর আমার বয়সের পার্থক্য নিয়ে কোনোদিন আপনার সাথে ফুটবল মাঠে নামার সুযোগ পাব কি না!’
সময়ের পরিক্রমায় সেই কিশোরই মেসির সাথে একই জার্সিতে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন। মেসির ফুটবলীয় প্রতিভার পাশাপাশি তার মানবিক আচরণের কথাও স্মরণ করেছেন এনজো। তিনি লিখেছেন, ‘আমি আসার পর থেকে আপনি আমার সাথে যে ব্যবহার করেছেন, তার জন্য আমি চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকব।’
মেসির সাথে মাঠ ভাগ করে নেওয়ার স্বপ্ন কীভাবে বাস্তবে পরিণত হয়েছিল, সেটিও চিঠিতে তুলে ধরেছিলেন এনজো। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে এসেছিলাম আমার আইডলের সাথে মাঠ ভাগ করে নেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু তার বদলে আমি এমন একজনকে পেয়েছি, যিনি প্রথম মুহূর্ত থেকেই আমাকে এই দলেরই একজন হিসেবে অনুভব করিয়েছেন।’
২০১৬ সালের সেই কিশোর বয়সের অনুভূতি থেকে মেসির বিদায়ী মুহূর্তে মনুমেন্তালে দাঁড়িয়ে অশ্রুসিক্ত হওয়া পুরো ঘটনাটিকে যেন একটি পূর্ণ বৃত্ত হিসেবে দেখছেন এনজো। নিজের সেই অনুভূতির কথাও আবেগঘন ভাষায় প্রকাশ করেছেন তিনি।
এনজোর ভাষায়, ‘আমি কত ভাগ্যবান ছিলাম, লিও! সেই ছোট বাচ্চাটা যে হিসেব কষছিল, কত ভাগ্যবান ছিল সে! আমার সাথে এই আচরণ করার জন্য, আমাকে সবকিছু শেখানোর জন্য এবং আপনার গল্পের একটি অংশ আমাকে হতে দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’


