...|...|...

বিশ্ব

মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালাতে ইরানকে সহায়তা করেছিল চীন

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:৫১
Shares
মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালাতে ইরানকে সহায়তা করেছিল চীন

ছবি: সংগৃহীত

জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলার আগে ইরানকে স্যাটেলাইট ছবি দিয়ে সহযোগিতা করেছিল চীনের বেশ কিছু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান—এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিলেন। বাণিজ্য ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টার মাঝেই এই চাঞ্চল্যকর খবরটি সামনে এল।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুলাই মাসে জর্ডানের নির্দিষ্ট ওই মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার আগে ইরানের হাতে স্যাটেলাইট চিত্র পৌঁছে দিয়েছিল চীনের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। তবে মার্কিন পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো চীনা প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা হয়নি। পাশাপাশি, চীন সরকার সরাসরি এই ছবি সরবরাহের প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত ছিল—এমন কোনো অভিযোগও করেনি যুক্তরাষ্ট্র। এই পার্থক্যটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ প্রতিবেদনে কেবল কিছু বেসরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার ইঙ্গিত মিললেও বেইজিংয়ের সরাসরি নির্দেশনার বিষয়টি প্রমাণিত নয়।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রতিবেদনের গুরুত্ব কিছুটা লঘু করে দেখার চেষ্টা করেছেন। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে নিজের সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেমন চীনের ওপর নজরদারি চালায়, তেমনি চীনও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নজরদারি করে থাকে। আসন্ন বৈঠকে শি জিনপিংয়ের সাথে এই বিষয়টি তুলবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। তবে তিনি জানান, দুই দেশই একে অপরের সাথে যুক্তিসংগত আচরণ করছে এবং শির সঙ্গে তার সম্পর্ক বেশ ভালো। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে দুই নেতার সম্ভাব্য বৈঠকের কথা থাকলেও বেইজিং এখনো তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে ওয়াশিংটনে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হতে পারে। কারণ, চীনা প্রযুক্তি বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের এই পরোক্ষ সহায়তা ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে বাড়িয়ে দিয়েছে কি না এবং এর ফলে মার্কিন সেনানিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে কি না—তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। এমনিতেই বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও ভূরাজনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে, তার ওপর ইরানের সাথে বেইজিংয়ের সম্পর্কের এই সমীকরণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন জটিলতা তৈরি করতে পারে। তবে এ বিষয়ে চীনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।