দীর্ঘ ১৬ থেকে ১৭ বছর সিঙ্গাপুরে কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে গড়ে তোলা মাছের প্রজেক্টে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে প্রজেক্টে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী।
জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও চাঁদা দাবির প্রতিবাদ করায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন সিঙ্গাপুর প্রবাসী মো. আসাদ মন্ডল। এ ঘটনায় তার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে কালাম মন্ডল নামে এক বিএনপি নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাংশা উপজেলার যশাই ইউনিয়নের নিভাকেষ্টপুর গ্রামে সিঙ্গাপুর প্রবাসী আসাদ মন্ডলের মাছের প্রজেক্টে বুধবার গভীর রাতে বিষ প্রয়োগ করা হয়। এতে পুকুরে থাকা প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা মূল্যের মাছ মারা যায় বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
আসাদ মন্ডল বলেন, প্রায় দুই দশক ধরে তিনি সিঙ্গাপুরে শ্রম দিয়ে উপার্জন করা অর্থ দেশে পাঠিয়ে ধীরে ধীরে মাছের প্রজেক্টটি গড়ে তুলেছেন। এই প্রজেক্টের ওপর তার পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভরশীল।
তার অভিযোগ, সম্প্রতি যশাই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান প্রামাণিক ও সাধারণ সম্পাদক কালাম মন্ডল তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়।
আসাদ মন্ডলের দাবি, এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার সকালে বহিরাগত কয়েকজনকে সাথে নিয়ে তার মাছের প্রজেক্টে হামলা চালানো হয়। এ সময় সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করা হয় এবং পুকুরপাড় থেকে প্রায় ৫০ কাঁদি কলা কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করেন আসাদ মন্ডল।
এরপর ওই রাতেই তার মাছের প্রজেক্টের পুকুরে বিষ প্রয়োগ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। সকালে পুকুরে অসংখ্য মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখে হতবাক হয়ে পড়েন প্রবাসী আসাদ মন্ডল ও তার পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, এতে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার মাছ মারা গেছে।
এ ঘটনায় পাংশা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন আসাদ মন্ডল। অভিযোগের ভিত্তিতে যশাই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কালাম মন্ডলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পাংশা মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা ওসি সঞ্জয় কুমার ঘোষ বলেন, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে কালাম মন্ডলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে কষ্টার্জিত অর্থে গড়ে তোলা মাছের প্রজেক্টে এমন ক্ষতির ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন আসাদ মন্ডল। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ক্ষয়ক্ষতির নিরূপণ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে চাঁদা দাবি, হামলা, ভাঙচুর ও বিষ প্রয়োগের অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল মান্নান প্রামাণিক ও কালাম মন্ডলের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।


