...|...|...

বিশ্ব

মরক্কোয় নির্বাচনে রাজতন্ত্রপন্থীর বড় জয়, তবে সরকার গঠনে নেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:৪৭ | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:৫৫
Shares
মরক্কোয় নির্বাচনে রাজতন্ত্রপন্থীর বড় জয়, তবে সরকার গঠনে নেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা

ছবি: সংগৃহীত

মরক্কোর পার্লামেন্ট নির্বাচনে সর্বাধিক আসন জয় করে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘অথেনটিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি’। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগার বা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে রাজতন্ত্রপন্থী এই দলটি।

শুক্রবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঘোষিত চূড়ান্ত ফলাফলে এই তথ্য জানানো হয়। মরক্কোর পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ‘হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস’-এর ৩৯৫টি আসনের মধ্যে ক্ষমতাসীন জোটের শরিক পিএএম জয় পেয়েছে ৯৭টি আসনে।

মরক্কোর সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচনে সর্বাধিক আসন পাওয়া দলের মধ্য থেকেই রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদকে একজন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করতে হবে। তবে সরকার গঠনের জন্য যেখানে ১৯০ বা তার বেশি (সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ১৯৮টি) আসনের প্রয়োজন, সেখানে পিএএম বেশ পিছিয়ে রয়েছে। ফলে দেশটিতে সরকার গঠনের জন্য অন্যান্য দলগুলোর সাথে মিলে আরেকটি জোট গঠন করতে হবে তাদের।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে রাজা মোহাম্মদের ঘনিষ্ট বন্ধু ফুয়াদ আলী এল হিম্মা এই দলটি প্রতিষ্ঠা করেন। দীর্ঘদিন ধরে পরিমিত ইসলামপন্থী দল ‘জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’-এর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পিএএমকে দেখা হয়ে আসছে। পিজেইডি এক দশক ধরে সরকার পরিচালনা করলেও ২০২১ সালের নির্বাচনে তাদের আসন সংখ্যা কমে ১৩টিতে নেমে এসেছিল।

তবে এবারের নির্বাচনে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে পিজেডি। তারা তাদের আসন সংখ্যা চারগুণ বাড়িয়ে ৫৪টিতে উন্নীত করেছে। পিএএমের সাথে দলটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শত্রুতা থাকায় এই দুই দলের মধ্যে কোনো জোট গঠনের সম্ভাবনা খুবই কম। পিজেডি ইতোমধ্যে বিরোধীদলেই থাকার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে পিএএমকে সরকার গঠনে তৃতীয় স্থান অর্জনকারী রাজতন্ত্রপন্থী ‘ইসতিলাল’ পার্টি এবং অন্যান্য দলগুলোর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

এদিকে, পিএএমের বর্তমান জোটের প্রধান শরিক ‘ন্যাশনাল র্যালি অব ইন্ডিপেন্ডেন্টস’ বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। গত নির্বাচনে ১০২টি আসন পেলেও এবার তাদের আসন সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৬৬টিতে।

ভোটারদের অনীহা ও কম উপস্থিতি

মরক্কোর ১৫.৮ মিলিয়ন নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে এবার মাত্র ৩৮ শতাংশ মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ১৯৯৯ সালে রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ সিংহাসনে আরোহণের পর থেকে এটি দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ভোটার উপস্থিতি। ২০০৭ সালে সর্বনিম্ন ৩৭ শতাংশ ভোট পড়েছিল এবং ২০২১ সালের নির্বাচনে ভোটদানের হার ছিল প্রায় ৫১ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, গত বছর চাকরি, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা ব্যবস্থার দাবিতে তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলন এবং জুলাই মাসে স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সিউটায় অভিবাসীদের প্রবেশে মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনার পর জনগণের মধ্যে রাজনীতি নিয়ে তৈরি হওয়া ব্যাপক অনীহার কারণেই ভোটের হার এত কম হয়েছে।

সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী

প্রধানমন্ত্রী পদের সম্ভাব্য দৌড়ে রয়েছেন পিএএম-এর দুই শীর্ষ নেতা—মরক্কো ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান ও বাজেট মন্ত্রী ফৌজি লেকজা এবং মারাক্কেশের মেয়র তথা জাতীয় পরিকল্পনা, আবাসন ও নগর নীতি বিষয়ক মন্ত্রী ফাতিমা ইজ্জাহরা মানসুরি। ফাতিমা ইজ্জাহরা শেষ পর্যন্ত নির্বাচিত হলে তিনিই হবেন মরক্কোর ইতিহাসের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।