নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এক পাকিস্তানি সাংবাদিকের উসকানিমূলক প্রশ্নের কড়া জবাব দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সাংবাদিকের করা এক প্রশ্নের উত্তরে পাল্টা জবাবে তিনি বলেন, একটি সন্ত্রাসী দেশ আমাকে এই প্রশ্ন করছে?
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পার্শ্ববৈঠকের সময় এই বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানি ওই সাংবাদিক ভারতীয় সরকারকে লক্ষ্য করে প্রশ্ন করেছিলেন যে, ভারত সরকার কখন পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়া বন্ধ করবে?
এই প্রশ্ন শোনার সাথে সাথেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করেন, একটি সন্ত্রাসী দেশ আমাকে এই প্রশ্ন করছে? এর পরপরই সাংবাদিক যখন তার কথা চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন মন্ত্রী ও অন্যান্য প্রতিনিধিদল নিজেদের চেয়ার ছেড়ে কক্ষ ত্যাগ করেন।
উল্লেখ্য, ভারত দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থান বজায় রেখে আসছে যে, বছরের পর বছর ধরে পাকিস্তান বা পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসীরা ভারতে একাধিক সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। এর অংশ হিসেবে, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসীরা জম্মু ও কাশ্মীরের জনপ্রিয় পর্যটন শহর পেহেলগামে নৃশংস হামলা চালায়। এই হামলায় একজন নেপালি নাগরিকসহ ২৬ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।
এর জবাবে ভারত পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে অবস্থিত সন্ত্রাসী আস্তানাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। মুজাফফরাবাদ, কোটলি, ভাওয়ালপুর, রাওয়ালকোট, চাকসওয়ারি, ভিমবার, নিলুম উপত্যকা, ঝিলাম এবং চাকওয়াল—এই অঞ্চলগুলোর নির্দিষ্ট স্থানগুলোতে ওই হামলা চালানো হয়েছিল। এসব স্থাপনা মূলত লস্কর-ই-তাইয়েবা এবং জইশ-ই-মোহাম্মদ-এর মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত ছিল, যে গোষ্ঠীগুলোকে ভারতে একাধিক হামলার জন্য দায়ী করা হয়। টার্গেট করা নয়টি স্থানের মধ্যে পাঁচটি ছিল পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে এবং চারটি পাকিস্তানের মূল ভূখণ্ডে অবস্থিত। ভাওয়ালপুর দীর্ঘকাল ধরে জইশ-ই-মোহাম্মদের সাথে যুক্ত এবং সংগঠনটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে চিহ্নিত। এছাড়া নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মতে, মুজাফফরাবাদ ও ভিমবারও জম্মু ও কাশ্মীরে অনুপ্রবেশের সঙ্গে জড়িত ট্রানজিট ও লজিস্টিক পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত।


