ভারতের শিক্ষাব্যবস্থাকে ভেতর থেকে দুর্বল ও কলুষিত করার জন্য বিজেপি-আরএসএসকে দায়ী করেছে বিরোধী দল কংগ্রেস। দলটির অভিযোগ, শিক্ষার্থীরা যখন শিক্ষা, নিয়োগ ও কর্মসংস্থান নিয়ে জবাবদিহি চাইছে, তখন তাদের কণ্ঠ রোধের চেষ্টা করছে ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রিত একটি ‘ব্যবস্থা’।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
রবিবার কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (যোগাযোগ) জয়রাম রমেশ এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এসব অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, বিজেপি-আরএসএসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লোকজন শিক্ষা, অর্থনীতি, রাজনীতি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে বলে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন।
এর আগে শনিবার ইন্দোরে কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচির পঞ্চম সংস্করণ অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ওই মতবিনিময় অনুষ্ঠানে শিক্ষা, পরীক্ষা, নিয়োগ ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।
সেখানে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করে এবং জবাবদিহি দাবি করে বলেই একটি ‘ব্যবস্থা’ তাদের ভয় পায়। তাঁর দাবি, শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করা থেকে বিরত রাখতে এই ব্যবস্থা তাদের কণ্ঠ দমন করতে চায়।
রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের পর কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বলেন, বিজেপি-আরএসএসের লোকজন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভেতর থেকে ফাঁপা ও কলুষিত করে ফেলেছে। তাঁর দাবি, এই ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের ভয় পায়, কারণ শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তোলে এবং জবাবদিহি দাবি করে।
রমেশ আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন রাহুল গান্ধী। তাঁর ভাষ্য, রাহুলের অবস্থানের কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় কাটছে এবং তাদের কণ্ঠস্বর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে।
ইন্দোরের ওই কর্মসূচিতে রাহুল গান্ধী শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। শিক্ষা ও নিয়োগ ব্যবস্থার অনিয়ম, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, কর্মসংস্থানের সংকট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বচ্ছতা নিয়েও সেখানে আলোচনা হয়।
কংগ্রেসের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের এসব প্রশ্ন ও জবাবদিহির দাবিই বর্তমান ‘ব্যবস্থার’ জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলটির দাবি, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে শিক্ষা ও নিয়োগ ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।


