...|...|...

বিশ্ব

আন্তর্জাতিক আদালতের রায়

ভারতকে সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি মানতে হবে

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:০২ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৩:৩২
Shares
ভারতকে সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি মানতে হবে

ছবি: নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত পিস প্যালেস

হেগভিত্তিক স্থায়ী সালিশি আদালত (পিসিএ) ভারতকে পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জল চুক্তি (আইডব্লিউটি) বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে অধিকৃত কাশ্মীরে নির্মাণাধীন রাতলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কিছু কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার আদেশ দিয়েছে আদালত।

সোমবার (৩১ আগস্ট) পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

গত বছরের এপ্রিলে ভারত একতরফাভাবে সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করার পর থেকে পানি বণ্টন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়। পাকিস্তান ভারতের এই পদক্ষেপকে চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক আদালতে তোলে।

পিসিএ তার রায়ে জানিয়েছে, সিন্ধু জল চুক্তি এখনো সম্পূর্ণ কার্যকর রয়েছে এবং এটি স্থগিত বা বাতিল করার জন্য ভারতের দেওয়া কারণগুলো গ্রহণযোগ্য নয়। আদালত বলেছে, চুক্তি অনুযায়ী পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলোর ওপর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নকশা ও পরিচালনার ক্ষেত্রে ভারতের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

আদালত জানিয়েছে, কোনো পক্ষ একতরফাভাবে চুক্তি বাতিল বা স্থগিত করতে পারে না। চুক্তিতে বলা হয়েছে, ভারত ও পাকিস্তান যৌথভাবে নতুন কোনো চুক্তি গ্রহণ না করা পর্যন্ত এটি কার্যকর থাকবে।

১৯৬০ সালের সিন্ধু জল চুক্তি অনুযায়ী, পূর্বাঞ্চলীয় নদী রাভি, বিয়াস ও সুতলজের পানি ব্যবহারের অধিকার ভারতের এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় নদী সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাবের অধিকাংশ পানির অধিকার পাকিস্তানের। এই চুক্তিতে পানি ব্যবস্থাপনা ও বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

রাতলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে পাকিস্তানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে জানিয়েছে, নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ৯০ দিন পর্যন্ত ভারত বাঁধের দেয়াল ও বিদ্যুৎ গ্রহণ কাঠামোর নির্দিষ্ট অংশের নির্মাণ এগিয়ে নিতে পারবে না।

কিষেনগঙ্গা ও রাতলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে বর্তমানে বিশ্বব্যাংক নিয়োগ করা একজন নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের সামনে বিষয়টি পর্যালোচনাধীন রয়েছে। ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

পাকিস্তান পিসিএর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আদালতের এই রায় সিন্ধু জল চুক্তির অধীনে ভারতের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করেছে।

তবে ভারত এই রায় প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তথাকথিত এই সালিশি আদালতের ভারতের ওপর কোনো এখতিয়ার নেই। নয়াদিল্লির দাবি, আদালতের সিদ্ধান্ত ভারতের সার্বভৌম অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ।

ভারত এই কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নেয়নি। তবে আদালত জানিয়েছে, ভারতের প্রকাশ্য বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট যোগাযোগের ভিত্তিতে তাদের অবস্থান বিবেচনা করা হয়েছে।

পিসিএ ভারতের চুক্তি স্থগিতের সম্ভাব্য কারণগুলোও পর্যালোচনা করেছে। আদালত বলেছে, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানির প্রয়োজন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো চুক্তি স্থগিতের বৈধ কারণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না।

আদালত আরও বলেছে, সশস্ত্র সংঘাতের সময়ও সিন্ধু জল চুক্তি কার্যকর থাকার জন্যই তৈরি করা হয়েছিল এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে চুক্তি স্থগিত করার কোনো বৈধ ভিত্তি পাওয়া যায়নি।