ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফায় বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাকে পেছনে ফেলেছেন ডানপন্থী প্রার্থী ফ্ল্যাভিও বলসোনারো। তবে সরাসরি জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশের বেশি বৈধ ভোট কোনো প্রার্থীই পাননি। ফলে আগামী ২৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফা বা রান-অফ ভোটে মুখোমুখি হবেন তাঁরা।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, প্রায় সব ভোট গণনার পর ফ্ল্যাভিও বলসোনারো পেয়েছেন ৫৬ মিলিয়নের বেশি ভোট এবং লুলা পেয়েছেন প্রায় ৫৩ দশমিক ৭ মিলিয়ন ভোট। প্রথম দফায় বলসোনারোর এগিয়ে থাকা প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৪৫ বছর বয়সী ফ্ল্যাভিও বলসোনারো সাবেক প্রেসিডেন্ট জায়ার বলসোনারোর ছেলে। আর ৮০ বছর বয়সী লুলা চতুর্থ মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেষ্টা করছেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে তিনি জায়ার বলসোনারোকে অল্প ব্যবধানে হারিয়েছিলেন।
এবারের নির্বাচনেও ব্রাজিলের গভীর রাজনৈতিক মেরুকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ভোটারদের কাছে অপরাধ, দুর্নীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনীতি এবং সার্বভৌমত্ব ছিল প্রধান ইস্যু। লুলা সামাজিক কর্মসূচি ও পরিবেশ সুরক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন, অন্যদিকে ফ্ল্যাভিও বলসোনারো কঠোর অপরাধবিরোধী নীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
এই নির্বাচনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফল এসেছে বলসোনারো পরিবার থেকে। সাবেক প্রেসিডেন্ট জায়ার বলসোনারোর স্ত্রী মিশেল বলসোনারো সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন। একই সঙ্গে কংগ্রেসেও ডানপন্থী শক্তির উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ফ্ল্যাভিও বলসোনারো নির্বাচিত হলে তাঁর বাবা ও ২০২৩ সালের ৮ জানুয়ারির সহিংসতার সঙ্গে জড়িত সমর্থকদের জন্য সাধারণ ক্ষমার উদ্যোগ নিতে পারেন—এমন অবস্থান তিনি প্রচারণায় তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে লুলা নির্বাচনকে গণতন্ত্র, সামাজিক নীতি এবং ব্রাজিলের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রশ্ন হিসেবে উপস্থাপন করছেন।
ব্রাজিলের সুপ্রিম ইলেক্টোরাল কোর্টের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে প্রায় ১৫ কোটি ৮৮ লাখ ভোটার ভোট দেওয়ার যোগ্য ছিলেন। প্রথম দফা হয়েছে ৪ অক্টোবর এবং দ্বিতীয় দফা অনুষ্ঠিত হবে ২৫ অক্টোবর।
লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতির নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত কার হাতে যাবে, তা নির্ধারিত হবে ২৫ অক্টোবরের রান-অফ ভোটে।


