...|...|...

বিশ্ব

হামলার ভয়ে যুক্তরাজ্য থেকে সব বোমারু বিমান সরাল যুক্তরাষ্ট্র

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৮:৩৯ | আপডেট: ৫ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১২:৫৭
Shares
হামলার ভয়ে যুক্তরাজ্য থেকে সব বোমারু বিমান সরাল যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার মধ্যে যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে নিজেদের সব বোমারু বিমান সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রবিবার (৪ অক্টোবর) জরুরি ভিত্তিতে বি-১ বোমারু বিমানগুলো যুক্তরাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলীয় ঘাঁটিটি ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিজ নিজ ঘাঁটির উদ্দেশে রওনা হয়। সোমবার (৫ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

আকস্মিক এই প্রত্যাহারের আগে আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে প্রায় এক ডজন বি-১ বোমারু বিমান মোতায়েন ছিল।

পেন্টাগনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, অভিযানসংক্রান্ত নিরাপত্তার কারণে সামরিক সম্পদ ও বাহিনীর চলাচলের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে ফেয়ারফোর্ডে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের সব বোমারু বিমান এখন নিজ নিজ ঘাঁটিতে ফিরে গেছে।

তিনি আরও বলেন, বি-১, বি-২ ও বি-৫২ বোমারু বিমান পরিচালনাকারী মার্কিন বিমানসেনারা বিশ্বের যেকোনো স্থানে, যেকোনো সময়ে নির্ভুল হামলা চালানোর সক্ষমতা প্রদর্শনে প্রস্তুত। প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড থেকে উড্ডয়ন করে অভিযান শেষে আবার সেখানেই ফিরে যাওয়ার সক্ষমতাও তাদের রয়েছে।

ঠিক কী কারণে হঠাৎ বিমানগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি। তবে এমন সময় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, যখন ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধে অংশ নেওয়া মার্কিন বোমারু বিমানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ যাত্রাবিরতি ও পরিচালনাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল আরএএফ ফেয়ারফোর্ড। লন্ডন থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত ঘাঁটিটি ইরান-সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলেও সম্প্রতি আশঙ্কা তৈরি হয়।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঘাঁটির কাছে সন্দেহজনক তিনটি ভ্যান শনাক্ত হওয়ার পর বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট অপরাধের সন্দেহে পাঁচ ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করে কর্তৃপক্ষ। পরে তাদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। ভ্যানগুলোতে পেট্রোল পাওয়া গেলেও কোনো বিস্ফোরক ডিভাইস পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এর কয়েক দিন পর বৃহস্পতিবার লন্ডনে ২৫ বছর বয়সী যুক্তরাজ্য ও ইরানের দ্বৈত নাগরিকত্বধারী আরও একজনকে সন্ত্রাসী হামলার প্রস্তুতির সন্দেহে গ্রেপ্তার করে ব্রিটিশ পুলিশ। তাকেও পরে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিকে ঘিরে কথিত ষড়যন্ত্রে ইরানের সম্পৃক্ততার ‘জোরালো ইঙ্গিত’ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে ইরান শুরু থেকেই এ ধরনের কোনো পরিকল্পনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

ব্রিটিশ সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশের জ্যেষ্ঠ জাতীয় সমন্বয়কারী ভিকি ইভান্স জানিয়েছেন, গ্লুচেস্টারশায়ারের ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত অত্যন্ত জটিল এবং বিশেষজ্ঞ দলগুলো একাধিক সূত্র ধরে কাজ করছে। সম্ভাব্য বিদেশি রাষ্ট্রের সম্পৃক্ততাসহ সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রথম দফায় পাঁচ সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষতি করার চেষ্টা করছিল। সন্দেহভাজনদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করারও প্রশংসা করেন তিনি।

এদিকে, ঘটনার সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের প্রতিবাদে গত সপ্তাহে তেহরানে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ইরান।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতের সময় আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ব্যবহারের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। ১৯৯০-এর দশকের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় থেকেই ঘাঁটিটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি দেখা গেছে। ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সময়ও ঘাঁটিটি ঘিরে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছিল।

চলমান ইরান সংঘাতে সরাসরি অংশ নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাজ্য সতর্ক অবস্থান নিলেও, মার্চে যুক্তরাষ্ট্রকে আরএএফ ফেয়ারফোর্ডসহ কয়েকটি ব্রিটিশ ঘাঁটি ‘প্রতিরক্ষামূলক’ অভিযানে ব্যবহারের অনুমতি দেয় লন্ডন।