যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে প্রবীণদের সেবা দেওয়ার কথা বলে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে জাকিয়া খান নামে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক নারীকে ৭৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে সরকারের কাছ থেকে নেওয়া ৫৬ মিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতের বিচারক নাতাশা সি. মার্ল এ সাজা ঘোষণা করেন। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মেডিকেয়ার কর্মসূচির অর্থ আত্মসাৎ এবং ঘুষ লেনদেনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে জাকিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ব্রুকলিনের কোনি আইল্যান্ড এলাকায় ‘হ্যাপি ফ্যামিলি’ ও ‘ফ্যামিলি সোশ্যাল’ নামে দুটি প্রবীণ পরিচর্যা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন জাকিয়া। পাশাপাশি ‘রেসপন্সিবল কেয়ার স্টাফিং’ ও ‘তানভী সার্ভিসেস’ নামে আরও দুটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তিনি।
২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতারণা চালানো হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রবীণদের প্রকৃত সেবা দেওয়ার পরিবর্তে তাদের নগদ অর্থের প্রস্তাব দেওয়া হতো। সেবা না নিয়েও ভুয়া উপস্থিতির কাগজে স্বাক্ষর করতেন অনেকে। এসব নথি ব্যবহার করে মেডিকেয়ার ও সরকারের কাছে সেবা দেওয়ার মিথ্যা দাবি তুলে অর্থ আদায় করা হতো।
তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, জাকিয়ার দুটি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৬৪ মিলিয়ন ডলারের ভুয়া বিল জমা দিয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ৫৬ মিলিয়ন ডলার পরিশোধও করা হয়। প্রতারণার অর্থে বিলাসবহুল সম্পদ কেনার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার সংগ্রহ করেছিলেন তিনি।
তদন্তের সময় গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতেও ঘুষ লেনদেনের দৃশ্য পাওয়া যায় বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে গত বছর জাকিয়া নিজের অপরাধ স্বীকার করেন।
কারাদণ্ডের পাশাপাশি তার কাছ থেকে আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তার দুটি বাড়ি, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৫ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
মার্কিন অ্যাটর্নি জোসেফ নোসেলা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রবীণ ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থ অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ


