...|...|...

লাইফস্টাইল

বিশ্ব প্রাথমিক চিকিৎসা দিবস: বিপদের মুহূর্তে যে দক্ষতা বাঁচাতে পারে জীবন

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:১১ | আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:২৮
Shares
বিশ্ব প্রাথমিক চিকিৎসা দিবস: বিপদের মুহূর্তে যে দক্ষতা বাঁচাতে পারে জীবন

প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ বাঁচাতে পারে জীবন। ছবি: এআই জেনারেটেড

জরুরি মুহূর্তে চিকিৎসক বা অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানোর আগের কয়েকটি মিনিটই হয়ে উঠতে পারে জীবন-মৃত্যুর ব্যবধান। দুর্ঘটনা, আকস্মিক অসুস্থতা কিংবা আঘাতের পর সঠিক সময়ে প্রাথমিক সহায়তা দেওয়া গেলে আক্রান্ত ব্যক্তির অবস্থার অবনতি ঠেকানোর পাশাপাশি জীবন রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব। তাই শুধু স্বাস্থ্যকর্মী নয়, সবারই প্রাথমিক চিকিৎসার মৌলিক জ্ঞান থাকা জরুরি।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব প্রাথমিক চিকিৎসা দিবস (World First Aid Day)।

প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় শনিবার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব প্রাথমিক চিকিৎসা দিবস (World First Aid Day)। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও সঠিকভাবে সহায়তা দেওয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করাই দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিগুলোর ফেডারেশন (IFRC) দিবসটি ঘিরে বিশ্বজুড়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে।

২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য

২০২৬ সালে IFRC- এর প্রচারণায় অভিবাসন ও চলমান মানুষের প্রেক্ষাপটে প্রাথমিক চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। চলার পথে থাকা মানুষের জন্য জরুরি মুহূর্তে আশপাশে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে সক্ষম কেউ থাকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তবে প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজন শুধু ভ্রমণ বা অভিবাসনের সময় নয়। বাড়ি, কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক কিংবা জনসমাগম- যেকোনো জায়গায় হঠাৎ দুর্ঘটনা বা অসুস্থতা ঘটতে পারে। তাই জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে নিরাপদে সাহায্য করতে হয়, সেই মৌলিক জ্ঞান সবার থাকা দরকার।

প্রাথমিক চিকিৎসা বলতে কী বোঝায়?

কেউ আহত বা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে পেশাদার চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত তার জীবন রক্ষা এবং শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঠেকাতে যে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়া হয়, সেটিই প্রাথমিক চিকিৎসা।

পরিস্থিতি অনুযায়ী এর মধ্যে রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ, ক্ষত ঢেকে রাখা, পোড়ার ক্ষেত্রে উপযুক্ত ব্যবস্থা, আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিরাপদ অবস্থায় রাখা এবং দ্রুত জরুরি সেবা নেওয়ার মতো পদক্ষেপ থাকতে পারে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী সিপিআরসহ কিছু জীবনরক্ষাকারী পদ্ধতিও প্রয়োগ করা হতে পারে।

তবে গুরুতর অসুস্থতা বা আঘাতের ক্ষেত্রে প্রাথমিক চিকিৎসাকে কখনোই পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়। এর উদ্দেশ্য হলো পেশাদার চিকিৎসা পাওয়ার আগ পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তিকে যতটা সম্ভব নিরাপদ রাখা।

কেন এই দক্ষতা সবার শেখা দরকার?

জরুরি সময়ে দ্রুত সহায়তা:

দুর্ঘটনার পর প্রথম কয়েক মিনিট গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। প্রশিক্ষিত কেউ ঘটনাস্থলে থাকলে দ্রুত জরুরি সেবা ডাকতে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রাথমিক সহায়তা দিতে পারেন।

আঘাতের অবস্থা খারাপ হওয়া ঠেকানো:

রক্তপাত, পোড়া বা অন্যান্য আঘাতের ক্ষেত্রে সঠিক প্রাথমিক ব্যবস্থা আক্রান্ত ব্যক্তির অবস্থার আরও অবনতি ঠেকাতে সহায়ক হতে পারে।

শিশুদের ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা:

খেলাধুলা কিংবা দৈনন্দিন কাজের সময় শিশুরা পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়া, কেটে যাওয়া বা হঠাৎ অসুস্থ হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে পড়তে পারে। অভিভাবক বা তত্ত্বাবধায়কের প্রাথমিক চিকিৎসার জ্ঞান থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়।

জরুরি কর্মীদের তথ্য দেওয়া:

দুর্ঘটনা কখন ঘটেছে, কীভাবে ঘটেছে এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে- এসব তথ্য জরুরি সেবাদানকারী বা চিকিৎসকদের জানানো পরবর্তী চিকিৎসায় সহায়ক হতে পারে।

সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা:

প্রাথমিক চিকিৎসার জ্ঞান থাকলে কোন পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থলে সহায়তা দেওয়া যায় আর কখন দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন, সে বিষয়ে তুলনামূলকভাবে ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়।

কী কী শেখা উচিত?

প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণে শুধু ব্যান্ডেজ করা বা ক্ষত পরিষ্কার করাই শেখানো হয় না। জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত শনাক্ত করা, নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সাহায্য করা, জরুরি সেবায় যোগাযোগ করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জীবনরক্ষাকারী পদক্ষেপ নেওয়াও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এ ছাড়া রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ, পোড়ার ক্ষেত্রে প্রাথমিক ব্যবস্থা, শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত জরুরি পরিস্থিতি এবং প্রশিক্ষণ অনুযায়ী সিপিআরের মতো বিষয়ও শেখানো হতে পারে।

তবে গুরুতর আঘাতের ক্ষেত্রে অনুমান করে ওষুধ দেওয়া বা অপ্রশিক্ষিতভাবে কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা বিপজ্জনক হতে পারে। তাই সম্ভব হলে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

প্রশিক্ষিত মানুষ বাড়লে নিরাপদ হয় সমাজ

প্রাথমিক চিকিৎসা শুধু ব্যক্তিগত একটি দক্ষতা নয়, এটি সামাজিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো দুর্ঘটনার সময় আশপাশের একাধিক মানুষ যদি নিরাপদভাবে সহায়তা করতে জানেন, তাহলে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতাও বাড়ে।

IFRC দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে জাতীয় রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিগুলোর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ২ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।

দুর্ঘটনা কখন কোথায় ঘটবে, তা আগে থেকে বলা যায় না। কিন্তু জরুরি মুহূর্তে কীভাবে নিরাপদে পাশে দাঁড়াতে হবে, সেই প্রস্তুতি আগে থেকেই নেওয়া সম্ভব।

বিশ্ব প্রাথমিক চিকিৎসা দিবস তাই শুধু একটি সচেতনতামূলক দিবস নয়। এটি মনে করিয়ে দেয়- জীবন বাঁচানোর জন্য সব সময় চিকিৎসক হওয়া প্রয়োজন নেই; কখনো কখনো সঠিক সময়ে সঠিকভাবে সাহায্য করতে জানা একজন সাধারণ মানুষও হয়ে উঠতে পারেন কারও প্রথম ভরসা।