...|...|...

রাজনীতি

বিরোধীদল চলে গেলেও বসে ছিলেন হাসনাত-হানজালা, নেপথ্যে কী?

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৩:১৩ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১১:১২
Shares
বিরোধীদল চলে গেলেও বসে ছিলেন হাসনাত-হানজালা, নেপথ্যে কী?

স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ বণ্টন নিয়ে বিরোধের জেরে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করলেও তখনও কক্ষে বসে ছিলেন এনসিপির হাসনা...

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের তৃতীয় দিনে স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ বণ্টন নিয়ে বিরোধের জেরে সংসদ থেকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা রাতে বের হয়ে যায়। তবে তাদের চলে যাবার পরও বিরোধী দলের দুই সদস্য এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহ ও খেলাফত মজলিসের সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা তখন সংসদ কক্ষে অবস্থান করেন। পরে হানজালাও কক্ষ ত্যাগ করেন, কিন্তু হাসনাত আবদুল্লাহ শেষ পর্যন্ত ছিলেন।

গতকাল বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সংসদে আরও ১০টি স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। এসব কমিটির সভাপতির পদে বিরোধী দলের কোনো সদস্যকে রাখা হয়নি। এ বিষয়ে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা আপত্তি জানান। তাদের দাবি, সংসদে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্বের অনুপাতে স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ তাদের পাওয়ার কথা।

এসময় বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী দলের সংসদ সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।

ওই সময় হাসনাত আবদুল্লাহ ও হানজালা কক্ষে অবস্থান করছিলেন। কয়েক মিনিট পর হানজালাও সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন। সংসদ যখন মুলতবি ঘোষণা করা হচ্ছিল তখন হাসনাত আব্দুল্লাহ ফ্লোর চান। তখন স্পিকারের আসনে ছিলেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। তিনি হাসনাত আব্দুল্লাকে ফ্লোর দেন।

স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ বণ্টন নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে বিতর্ক নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিরোধী দল জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত কমিটিতে অংশ নিলে তাদের আসনের আনুপাতিক হারে স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

তবে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ বণ্টন নিয়ে বিতর্কের সময় বিরোধী দলের কয়েকজন সদস্য সংসদ কক্ষ ত্যাগ করলেও সেটিকে ওয়াকআউট বলা ঠিক নয় বলে দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান।

গতকাল বুধবার রাতে সংসদ অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় তিনি এ দাবি করেন।

নাজিবুর রহমান বলেন, তারা প্রতিবাদ হিসেবে ওয়াকআউট করেননি। দিনের কার্যক্রম শেষের দিকে চলে আসায় তারা সংসদ থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন।

এর আগে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদে বিরোধী দলের আসনের অনুপাতে ২৬ শতাংশ পদ না দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানান বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন দলের আচরণের কারণে বিরোধী দলের সংসদে নিয়মিত অংশগ্রহণের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও একই পদ্ধতিতে সংসদীয় কমিটি গঠন করা হলে সংসদে থাকা বা না থাকার বিষয়ে বিরোধী দল সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান তিনি।

তাহেরের বক্তব্যের জবাব দিতে পরে দাঁড়ান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তার বক্তব্য চলাকালে বিরোধী দলের কয়েকজন সদস্য সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেন, বিষয়টি ওয়াকআউট নয়। তিনি মন্তব্য করেন, সবাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন, তাই চাইলে বাড়িতে চলে যেতে পারেন এবং পরবর্তী বিষয়গুলো সংবাদপত্রে জানতে পারবেন।

এরপর সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে বিরোধীদলীয় উপনেতার বক্তব্যের জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

অধিবেশনের শেষ পর্যায়ে সংসদীয় কমিটিগুলোর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

তিনি জানান, তিনি তিনটি সংসদীয় কমিটির সদস্য হলেও কয়েকটির কার্যক্রম নিয়মিত নয়। হাউজ কমিটির শুরুতে দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও গত চার থেকে পাঁচ মাসে আর কোনো বৈঠক হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবেও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে হাসনাত বলেন, সংসদীয় কমিটিগুলো কার্যকরভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে যথাযথ প্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে।

কমিটিগুলোর কার্যক্রম আরও সক্রিয় করা এবং তাদের কাজের নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

জবাবে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।