সরকারি দলের আচরণের কারণে বিরোধী দলের সংসদে থাকার আগ্রহ দিন দিন কমে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সংসদীয় কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তাহের বলেন, সরকারি দলের আচরণে বিরোধী দলের সংসদে থাকার আগ্রহ কমে যাচ্ছে, যা তার মতে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ বণ্টনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিরোধী দলের সদস্যসংখ্যার অনুপাতে ২৬ শতাংশ পদ পাওয়ার বিষয়ে সরকারি দলের সাথে আগে আলোচনা ও সমঝোতা হয়েছিল।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু কমিটির সদস্য পদ নয়, সভাপতি পদেও বিরোধী দলের ২৬ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব থাকার কথা। যদিও সংবিধান কিংবা সংসদের কার্যপ্রণালি ও রীতিনীতি সংক্রান্ত বিধানে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই।
তাহের জানান, আলোচনার একপর্যায়ে সরকারি দলের পক্ষ থেকে বিরোধী দলকে ১০টি কমিটির সভাপতি পদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এ জন্য একটি তালিকাও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
সরকারি দল সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে নিজেদের সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে বাস্তবায়ন করছে বলেও অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় উপনেতা।
সংসদে আলোচনার পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তুলে তাহের বলেন, বিরোধী দলের বক্তব্যের জবাব দিতে মন্ত্রীরা বারবার দাঁড়ালে আলোচনার স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। এ বিষয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংসদ পরিচালনায় সবার বক্তব্যের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
কোনো কমিটিতে বিরোধী দলকে পদ দেওয়ার বিনিময়ে সভাপতি পদ দেওয়ার প্রস্তাবেরও সমালোচনা করেন তাহের। তিনি বলেন, কমিটির সভাপতির পদ বিরোধী দলের প্রাপ্য অধিকার হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।
সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সব কমিটির সভাপতি পদ সরকারি দলের নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রবণতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও সব সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে চাপিয়ে দেওয়া গণতান্ত্রিক আচরণ নয়।
তিনি আরও বলেন, বিরোধী দল সংসদকে এমনভাবে পরিচালিত হতে দেখতে চায় না। সংসদের ভেতরে ও বাইরে কোনো ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি না করার জন্য সরকারি দলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, দেশে নতুন করে কোনো বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পরিস্থিতি তৈরি হোক, সেটি কেউই কামনা করে না।


