ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিহার রাজ্যের পানির প্রয়োজনীয়তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জনতা দল ইউনাইটেড (জেডিইউ)-এর জাতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতি ও রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় কুমার ঝা-কে পাঠানো এক চিঠিতে এই কথা জানান তিনি। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
সাম্প্রতিক ওই চিঠিতে জয়শঙ্কর উল্লেখ করেন, গঙ্গা চুক্তি নিয়ে যে ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার তা পুরোপুরি বুঝতে পেরেছে এবং সমস্ত প্রাসঙ্গিক দিক খতিয়ে দেখার পরই একটি উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। গত ৬ আগস্ট রাজ্যসভায় সঞ্জয় কুমার ঝা বাংলাদেশের সাথে ভবিষ্যৎ চুক্তিতে বিহারের পানির স্বার্থ রক্ষার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পরই মূলত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই আশ্বাস এল।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবে গৌড়া এবং বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ৩০ বছর মেয়াদী এই চুক্তিটি দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত পারাপার হওয়া গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরেই এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে।
তবে সঞ্জয় কুমার ঝা এবং তার দল জেডিইউ বর্তমান চুক্তির বর্তমান রূপের বিরোধিতা করে আসছে। তাদের যুক্তি, গত তিন দশক ধরে এই ব্যবস্থার কারণে বিহার রাজ্য মারাত্মক অবিচারের শিকার হয়েছে। ঝা জানিয়েছেন, এই চুক্তির ফলে গঙ্গায় উজানে পলি জমার পরিমাণ ব্যাপকভাবে বেড়েছে এবং শুষ্ক মৌসুমে রাজ্যে পানির লভ্যতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
কেন্দ্রের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, চুক্তি নবায়নের বিষয়ে সম্মত হওয়ার আগে শিল্প, সেচ, কৃষি এবং পানীয় জলের ক্ষেত্রে বিহারের চাহিদা এবং ২০৫০ সালের প্রাক্কলিত জনসংখ্যার বিষয়টি যেন অবশ্যই বিবেচনায় রাখা হয়। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীকে সাথে নিয়ে সঞ্জয় কুমার ঝা কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতাররমণ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাথে সাম্প্রতিক এক বৈঠকেও এই বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করেছিলেন।
রাজ্যসভায় সঞ্জয় কুমার ঝার বিশেষ ওই বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে জয়শঙ্কর জানান, চুক্তির বাস্তবায়ন ও ভবিষ্যৎ পর্যালোচনা করার জন্য জল শক্তি মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এবং বিভিন্ন অংশীজনের অংশগ্রহণে আন্তঃমন্ত্রণালয় পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জয়শঙ্কর জানান, ২০২৩ সালের ২২ আগস্ট ও ৩০ অক্টোবর এবং ২০২৪ সালের ১৫ মার্চ ও ৩১ মে অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকে বিহার সরকারের একজন অনুমোদিত প্রতিনিধিও অংশ নিয়েছিলেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, বিহারের পানীয় জল এবং শিল্প খাতের পানির প্রয়োজনীয়তা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে।


