বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ১৯৯২-১৯৯৫ সালের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সময় গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক বসনীয় সার্ব জেনারেল রাতকো ম্লাদিচ মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।
বৃহস্পতিবার আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
সার্বিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আরটিএস এবং বসনীয় সার্ব সম্প্রচারমাধ্যমের প্রতিবেদনে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে। পরে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘের এক কর্মকর্তাও বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত জাতিসংঘের কারাগার হাসপাতালেই ম্লাদিচের মৃত্যু হয়। তার পরিবারের এক সদস্যও এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ম্লাদিচের ছেলে দার্কো ম্লাদিচ বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে হেগের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ম্লাদিচ ১৯৯৫ সালে বসনিয়ার স্রেব্রেনিসায় জাতিসংঘ ঘোষিত ‘নিরাপদ এলাকা’য় অন্তত ৮ হাজার বসনিয়াক মুসলিম পুরুষ ও বালক হত্যার ঘটনায় গণহত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের অন্যতম ভয়াবহ এই হত্যাযজ্ঞের মূল পরিকল্পনাকারীদের একজন হিসেবে তাকে বিবেচনা করা হয়।
২০১৭ সালে সাবেক যুগোস্লাভিয়ার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটিওয়াই) তাকে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। ট্রাইব্যুনাল তার অপরাধকে মানবজাতির ইতিহাসের অন্যতম জঘন্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছিল।
‘বসনিয়ার কসাই’ নামে পরিচিত ম্লাদিচ ১৯৯২ সালে যুদ্ধ শুরু হলে বসনীয় সার্ব বাহিনীর কমান্ডার হন। তার নেতৃত্বে সার্ব বাহিনী বসনিয়ার বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং সারায়েভোসহ বিভিন্ন শহরে দীর্ঘদিন অবরোধ ও গোলাবর্ষণ চালায়।
বসনীয় যুদ্ধের সময় এক লাখের বেশি মানুষ নিহত এবং ২০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। ম্লাদিচের বাহিনীর বিরুদ্ধে বন্দিশিবির স্থাপন, বেসামরিক মানুষ হত্যা এবং জাতিগত নির্মূল অভিযানের অভিযোগ প্রমাণিত হয়।
স্রেব্রেনিসা হত্যাকাণ্ডে নিহতদের মরদেহ গোপন করতে গণকবর থেকে তুলে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তে উঠে আসে।
জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান জেইদ রাদ আল-হুসেইন তাকে “শয়তানের প্রতিমূর্তি” হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তবে ম্লাদিচ বরাবরই আদালতের রায় প্রত্যাখ্যান করে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
২০১৭ সালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ঘোষণার সময়ও তিনি আদালতের সিদ্ধান্তকে “মিথ্যা” বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।


