আটক মিয়ানমারের নাগরিকদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ১ হাজার ৪৭৬ জনকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। দুই দেশের সমঝোতার আওতায় পর্যায়ক্রমে মোট ৫ হাজার আটক নাগরিককে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পেরাকের লুমুটে রয়্যাল মালয়েশিয়ান নেভি (টিএলডিএম) ঘাঁটি থেকে প্রথম ধাপের কার্যক্রম শুরু হয়। মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (কেডিএন) ও অভিবাসন বিভাগের (জেআইএম) উদ্যোগে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-মহাসচিব (নীতি ও নিয়ন্ত্রণ) দাতুক মাখজান মাহিউদ্দিন জানান, প্রথম ধাপে ফেরত পাঠানো ১ হাজার ৪৭৬ জনের পরিচয় মিয়ানমার সরকার কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে।
তিনি বলেন, কোনো দেশের নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে পরিচয় শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং নিজ দেশে গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের সহযোগিতা জরুরি। মিয়ানমারের দূতাবাস ও নৌবাহিনী এ প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়াকে সহযোগিতা করছে।
প্রথম ধাপের এই কার্যক্রমে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও নিরাপত্তা সংস্থার ৮৬৫ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের বয়স ৮ থেকে ৬০ বছর। তাদের মালয়েশিয়ার বিভিন্ন স্থানে থাকা ১৪টি অভিবাসন আটক কেন্দ্র থেকে স্থানান্তর করা হয়েছে।
মিয়ানমার সরকার নাগরিকদের ফেরত নিতে ইউএমএস মোয়াট্টামা পরিবহন জাহাজ, ইউএমএস কিং সিন ফিউ শিন যুদ্ধজাহাজ এবং থানলউইন হাসপাতাল জাহাজ পাঠিয়েছে। অন্যদিকে মালয়েশিয়ার নৌবাহিনীর কেডি লেকির ও কেডি তেগুহ সামুদেরা জাহাজ মিয়ানমারের জাহাজগুলোকে নির্ধারিত জলসীমা পর্যন্ত নিরাপত্তা দিয়ে এগিয়ে নেবে।
মাখজান মাহিউদ্দিন জানান, গত ১৫ আগস্ট পর্যন্ত মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অভিবাসন আটক কেন্দ্রে ১০ হাজার ৩৮৮ জন মিয়ানমারের নাগরিক ছিলেন। তবে তাদের সবাইকে শরণার্থী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
তিনি জানান, রয়্যাল মালয়েশিয়ান পুলিশের (পিডিআরএম) সহযোগিতায় শরণার্থী নিবন্ধন নথি (ডিপিপি) কর্মসূচি পরিচালনা করছে সরকার। যাচাই-বাছাইয়ের পর যারা শরণার্থী হিসেবে শনাক্ত হবেন, তাদের আলাদাভাবে ডিপিপি কর্মসূচির আওতায় নেওয়া হবে।
প্রথম ধাপের কার্যক্রম শেষে লজিস্টিকস, নিরাপত্তা ও নথিপত্রের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করবে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অভিবাসন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। এরপর পরবর্তী ধাপে আটক নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর তারিখ নির্ধারণ করা হবে।


