নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) সর্বশেষ আপডেটে এ তথ্য জানিয়েছে নেপাল সরকার। একই ঘটনায় তিব্বতে আরও সাতজনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে চীন। ফলে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৮২ জনে।
গত বুধবার চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী নেপালের রাসুয়া জেলার ভোটেকোশি নদী দিয়ে তীব্র গতিতে আকস্মিক ঢল নেমে আসে। ঢলের সঙ্গে বড় বড় পাথর ও কাদা থাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এসব পাথর ও কাদার নিচে চাপা পড়েই সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বন্যার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রায় তিন হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তারা জীবিত আছেন, নাকি মারা গেছেন এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেপালের সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, আকস্মিক বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এত বেশি যে উদ্ধারকারীরা সব এলাকায় পৌঁছাতে পারছেন না। দুর্গম কিছু এলাকায় শুধু হেলিকপ্টারের মাধ্যমে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। ফলে অনেক দুর্গত মানুষের কাছেই এখনো উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারেনি।
বিশেষজ্ঞরা বন্যার ভয়াবহতা বোঝাতে ঘটনাটিকে ‘পাহাড়ের সুনামি’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। প্রবল স্রোতের কারণে বেশ কিছু মরদেহ ভেসে কয়েকশ মাইল দূরে ভারতের বিভিন্ন এলাকায়ও পৌঁছে গেছে। ভারত থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত আটটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নদীর নিম্নাঞ্চলের আরও বিভিন্ন স্থানে মরদেহ ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
যে এলাকায় বন্যার ঘটনা ঘটেছে, সেখানে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ চলছিল। নেপালি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই প্রকল্পের ৯৩৩ কর্মী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
উদ্ধারকাজ অব্যাহত থাকলেও দুর্গম এলাকা ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে নিখোঁজদের সন্ধান এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব করতে সময় লাগছে।
সূত্র: এএফপি


