...|...|...

বিশ্ব

নেতানিয়াহুর বিকল্প পরিকল্পনা নাকচ করল ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় ব্যাংক

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৫৮
Shares
নেতানিয়াহুর বিকল্প পরিকল্পনা নাকচ করল ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ছবি: সংগৃহীত

সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন দখলদার রাষ্ট্র ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে তার সেই প্রস্তাবে সায় দেয়নি দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক অব ইসরায়েল জানিয়েছে, ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এড়ানো সম্ভব নয়।

আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ইসরায়েলের একটি ব্যবসায়িক টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় বিকল্প আর্থিক ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনার কথা বলেন নেতানিয়াহু। এ পরিকল্পনায় ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানান তিনি।

এর জবাবে শনিবার (২৪ অক্টাবর) ব্যাংক অব ইসরায়েল জানায়, ক্রিপ্টোকারেন্সিকে নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর উপায় হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকটির মতে, ইসরায়েলের অর্থনীতির জন্য প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা আরোপ ঠেকানো এবং এর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব কমাতে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

ব্যাংকটি আরও বলেছে, নিষেধাজ্ঞা প্রতিরোধ এবং এর পরিণতি সীমিত রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব।

এদিকে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ। তিনি বলেন, ‘নেতানিয়াহুর বক্তব্যটি পাগলামিপূর্ণ, তবে এটি সত্য যে—যদি তাঁর সরকার পুনরায় নির্বাচিত হয়, তবে নিরাপত্তা সহায়তা বন্ধ হয়ে যাবে এবং ইসরায়েলের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক প্রধান ও বিরোধী দল ইয়াশারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইয়োয়াভ হোরোউইৎজও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নেতানিয়াহুর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া রবিবার ও সোমবার স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। তাঁর আশঙ্কা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইসরায়েল থেকে অর্থ সরিয়ে নিতে পারে।

হোরোউইৎজের মতে, নিষেধাজ্ঞা কীভাবে ঠেকানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা না করে নেতানিয়াহু নিষেধাজ্ঞা আরোপ হলে কী করা হবে, সে বিষয়ে কথা বলছেন। তাঁর দাবি, এ ধরনের বক্তব্য ইসরায়েলে বসবাস, ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মানুষের আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে।

এদিকে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের ঘটনায় দেশটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইউরোপের বিভিন্ন মহল থেকে চাপ বাড়ছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইউরোপীয় কমিশন ইসরায়েলের কিছু বাণিজ্য সুবিধা স্থগিত এবং কয়েকজন ইসরায়েলি মন্ত্রী ও সহিংস বসতি স্থাপনকারীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব দিয়েছিল।

২০২৬ সালের মে মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও বসতি কার্যক্রমে সহায়তাকারী সংস্থাগুলোকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে একমত হন। তবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও বিস্তৃত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়া নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় নেতানিয়াহুর বিকল্প আর্থিক ব্যবস্থা তৈরির প্রস্তাব এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আপত্তি ইসরায়েলের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়িয়েছে।