...|...|...

বিশ্ব

নতুন করে হামলা হলে ‘সারপ্রাইজ’ দেবে ইরান

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫:৫৪ | আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫:৫৭
Shares
নতুন করে হামলা হলে ‘সারপ্রাইজ’ দেবে ইরান

ছবি: সংগৃহীত।

ইরানের ওপর নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সম্ভাব্য এই হামলার জবাবে অপ্রত্যাশিত কৌশলে পাল্টা আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। এতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের ভেতরে নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ লক্ষ্যে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকা সম্প্রসারণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তালিকায় জ্বালানি অবকাঠামোও রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী সম্ভাব্য নতুন অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে প্রশিক্ষণ ও মহড়া জোরদার করেছে। তবে হামলার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

সম্ভাব্য হামলার জবাবে প্রচলিত সামরিক কৌশলের বাইরে গিয়ে আকস্মিক আক্রমণ চালানোর হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন সংঘাত শুরু হলে পাল্টা পদক্ষেপের ক্ষেত্রে কোনো ‘লাল রেখা’ থাকবে না।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে সম্ভাব্য পাল্টা হামলার লক্ষ্য হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি স্থাপনা, বেসামরিক অবকাঠামো এবং সমুদ্রতলের ইন্টারনেট কেবলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব স্থাপনায় হামলা হলে আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগব্যবস্থাও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

ইরানের কৌশলগত হিসাবের একটি অংশ হলো, মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বাড়বে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপরও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হবে। তবে প্রতিবেদনে আলোচিত এসব লক্ষ্যবস্তুতে হামলার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য মার্কিন অভিযানে ইরানের সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি জ্বালানি অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ধরনের হামলা ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে জ্বালানি স্থাপনায় হামলার বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে।

অন্যদিকে, ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলো আক্রান্ত হলে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা আরও বড় সংকটে পড়তে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে তার প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইরানে নতুন করে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চললেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। অতীতেও তার প্রশাসন ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের একাংশ মনে করেন, সামরিক চাপ বাড়ালে ইরানকে আলোচনায় ছাড় দিতে বাধ্য করা সম্ভব হতে পারে। তবে নতুন করে হামলা শুরু হলে সংঘাত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের বিরোধের মধ্যেই নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে। ফলে সম্ভাব্য হামলা ও এর জবাবে ইরানের পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন হামলা কিংবা ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা অভিযানের কোনোটিই এখনো নিশ্চিত নয়।